সর্বশেষ খবর:

পাঁচ বছরের বন্ধ সিম বিক্রি করছে গ্রামীণফোন



এক বারের জন্যও ব্যবহার হয়নি পাঁচ বছর ধরে বন্ধ এমন সিম বিক্রি শুরু করেছে মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন।

আগস্টের শুরুর দিকে পরীক্ষামূলকভাবে ২০০৯ সালের আগে থেকে এখনওবন্ধ রয়েছে এমন পাঁচ হাজার সিম বিক্রি করে অপারেটরটি। তবে প্রাথমিক এ পরীক্ষা সফল হওয়ায় এখন পাঁচ বছরের পুরনো এমন আরও১৬ লাখ সিম চিহ্নিত করছে অপারেটরটি।

যদিও অপারেটরটি প্রতিনিয়ত পুরনো বন্ধ সিম চালুর জন্য বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছে। এ জন্য বন্ধ করা সিমের গ্রাহকদের ফিরে আসতে নানা আকর্ষণীয় অফার দেওয়া হচ্ছে।

এসব সিমও বিক্রি করার খবর নিশ্চিত করছেনঅপারেটরটির কর্পোরেটর বিভাগের প্রধান মাহমুদ হোসাইন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে জানিয়ে কাজ করছেন তারা।

একই সঙ্গে এসব সিমের বিপরীতে তারা নতুন করে কর দেওয়া হবে বলে কারও আপত্তি থাকার কথা নয় বলে এ কর্মকর্তা মন্তব্য করেন।

অপারেটরটি জানিয়েছে, গত ১৭ বছরে সব মিলে অপারেটরটি প্রায় নয় কোটি সিম বিক্রি করেছে যার সবটাই তাদের নেটওয়ার্কে আছে। কিন্তু এর মধ্যে বর্তমানে কার্যকর আছে প্রায় ৫ কোটি সিম।

এর মধ্যে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া সিমগুলো খুঁজে খুঁজে বিক্রি করতে চায় গ্রামীণফোন। এতে অবশ্য পুরনো অনেক গ্রাহকের বন্ধ থাকা সিমেরও মালিকানা পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে বলে স্বীকার করেছেন অপারেটরটির কর্মকর্তারা।

গ্রামীণফোনের কর্মকর্তারা এ বাস্তবতা মেনে নিয়ে বলছেন, দুই বা তিন বছর ধরে বন্ধ থাকা একটি সিমের নম্বর সেই গ্রাহক আবার ব্যবহার করতে শুরু করবে তা ভাবা দুষ্কর। এ কারণেই অন্তত এক বছর ধরে বন্ধ আছে এমন সিম আবার বিক্রি করতে চান তারা।

তবে আপাততকেবল পাঁচ বছর ধরে বন্ধ আছে এমন সিমকেই বিক্রি তালিকায় রেখেছে অপারেটরটি।

টেলিযোগাযোগের ভাষায় বন্ধ থাকা সিম নতুন করে বিক্রি করতে যাওয়াকে বলে রিসাইকেলিং। গ্রামীণফোন সম্প্রতি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) এ বিষয়ে একটি চিঠিও দেয়। যেখানে বলা হয়েছে, বিশ্বের সকল দেশে এই ব্যবস্থা বিদ্যমান আছে।

গ্রামীণফোন বলছে, পুরনো বন্ধ সিম বিক্রি করতে পারলে তাদের নেটওয়ার্কের ওপর চাপ কমবে এবং এসংক্রান্ত খরচও কমে আসবে। তাতে গ্রাহকও অনেক ভালো নেটওয়ার্ক পেতে পারবেন।

গ্রামীণফোন সূত্র জানিয়েছে, ইতিমধ্যে নয় কোটির কাছাকাছি সিম বিক্রি করে ফেলায় গ্রামীণফোন এগারো ডিজিটের কোটা শেষ করতে আর মাত্র অল্প কিছু দূরে আছে। আবার করপোরেট প্যাকেজের ঝামেলা থাকায় অনেকক্ষেত্রে একটি সিরিয়ালের কিছু নম্বর কখনই বিক্রি করা সম্ভব নয়।

ফলে অপারেটরটির সামনে বিকল্প ছিল হয় পুরনো বন্ধ থাকা নম্বর আবার বিক্রি করাঅথবা এক ডিজিট বাড়িয়ে দেওয়া। কিন্তু একটি ডিজিট বাড়িয়ে গ্রামীনফোনের নম্বর ১২ ডিজিটে চলে গেলে নানা কারিগরি জটিলতা দেখা দেবে। অন্যদের নম্বরের সঙ্গে ম্যাচ করাও হবে সমস্যা।

সেটি হলে গোটা সেক্টরের প্রত্যেকের একটি করে ডিজিট বাড়বে। তাছাড়া গ্রাহকদেরকেও তাদের মোবাইল ফোনের প্রতিটি নম্বরের সঙ্গে একটি করে ডিজিট বাড়াতে হবে।

এর আগে দেশের মোবাইল ফোনের নম্বর নয় ডিজিটের হলেও পরে দুই ধাপে তা আরওএকটি করে ডিজিট বাড়াতে হয়েছে।

গ্রামীণফোনসহ অন্য অপারেটররা বলছে, নম্বর বন্ধ থাকলেও যেহেতু সেগুলো নেটওয়ার্কের মধ্যেই থাকে তাই এগুলোর ব্যবস্থাপনার জন্যও খরচ করতে হয়। ফলে বিনিয়োগও বেশিদরকার হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা নম্বরগুলো নেটওয়ার্ক থেকে বের করে নিতে পারলে তাতে খরচ কমে আসতে পারে।
    Blogger Comment
    Facebook Comment