হযরত মোহাম্মদ (সা.), হজ, তাবলীগ জামাত ও প্রধানমন্ত্রী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
লন্ডনে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ঢাকায় সরকারের সূত্রগুলো বাংলামেইলকে নিশ্চিত করেছে। এছাড়াও লতিফ সিদ্দিকীকে অব্যাহতি দেয়ার কথা বাংলামেইলের কাছে স্বীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুব হক শাকিল।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, ডাক ও টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত লন্ডনে হলেও তা কার্যকর হবে দেশে ফিরলে।
যা বলেছিলেন লতিফ সিদ্দিকী
গত রোববার বিকেলে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের একটি হোটেলে নিউইয়র্কে বসবাসরত টাঙ্গাইলবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন লতিফ সিদ্দিকী।
এসময় তিনি বলেন, ‘আব্দুল্লাহর পুত্র মোহাম্মদ চিন্তা করলো এ জাজিরাতুল আরবের লোকেরা কীভাবে চলবে? তারাতো ছিল ডাকাত। তখন সে একটা ব্যবস্থা করলো যে আমার অনুসারীরা প্রতিবছর একবার একসঙ্গে মিলিত হবে। এর মধ্য দিয়ে একটা আয়-ইনকামের ব্যবস্থা হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমি হজ আর তাবলীগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী, জামায়াতে ইসলামীরও বিরোধী, তবে তার চেয়েও বেশি হজ ও তাবলীগ জামাতের।’
হজ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের এ প্রবীণ নেতা বলেন, ‘হজের জন্য ২০ লাখ লোক সৌদি আরবে গিয়েছে। এদের কোনো কাম নাই। এদের কোনো প্রডাকশন নাই। শুধু রিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা দিয়ে আসছে।’
এসময় তাবলীগ জামাতের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘তাবলীগ জামায়াত প্রতিবছর ২০ লাখ লোকের জমায়েত করে। নিজেদেরতো কোনো কাজ নেই। সারা দেশের গাড়িঘোড়া তারা বন্ধ করে দেয়।’
প্রধানমন্ত্রী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়েও সমালোচনাও করেন মন্ত্রী। এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কথায় কথায় আপনারা জয়কে টানেন কেন। ‘জয় ভাই’ কে? জয় বাংলাদেশ সরকারের কেউ নয়। তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নেবারও কেউ নন।’
বিভিন্ন মিডিয়ায় ও সামাজিক যোগাযোগ সাইটে লতিফ সিদ্দিকীর এই বক্তব্য প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিএনপি নেতারা তার পদত্যাগ এবং গ্রেপ্তারের দাবি জানান। এরশাদের পক্ষ থেকেও তার পদত্যাগ দাবি করা হয়। হেফাজতে ইসলাম তাকে ‘মুরতাদ’ আখ্যা দিয়ে তার পদত্যাগ দাবি করে। অন্যদিকে তাকে ফাঁসির দাবি জানিয়েছে ছুন্নী আন্দোলন বাংলাদেশ।
আওয়ামী লীগের নেতারাও তার এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরী এবং সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের পৃথক অনুষ্ঠানে এ প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাজেদা চৌধুরী বলেন, ‘মুখফোঁড়া কী বললো তাতে কেউ কান দেবেন না। জয় কে, সেটাও আপনারা সবাই জানেন।’
দুপুরে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে ঢাকা আরিচা মহাসড়কের উপর নির্মিত ফুটওভার ব্রিজ উদ্বোধন করে ওবায়দুল কাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সজিব ওয়াজেদ জয় আমাদের দলের ভবিষ্যৎ নেতা। তিনি প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন। তাকে নিয়ে মন্ত্রীর এমন বক্তব্য দেয়া ঠিক হয়নি। দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।’
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, ‘হজ ও তাবলীগ জামাতকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করে মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী দেড়শ কোটি মোসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন। ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রতি অবজ্ঞা করেছেন তিনি। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’
লন্ডনে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ঢাকায় সরকারের সূত্রগুলো বাংলামেইলকে নিশ্চিত করেছে। এছাড়াও লতিফ সিদ্দিকীকে অব্যাহতি দেয়ার কথা বাংলামেইলের কাছে স্বীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুব হক শাকিল।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, ডাক ও টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত লন্ডনে হলেও তা কার্যকর হবে দেশে ফিরলে।
যা বলেছিলেন লতিফ সিদ্দিকী
গত রোববার বিকেলে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের একটি হোটেলে নিউইয়র্কে বসবাসরত টাঙ্গাইলবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন লতিফ সিদ্দিকী।
এসময় তিনি বলেন, ‘আব্দুল্লাহর পুত্র মোহাম্মদ চিন্তা করলো এ জাজিরাতুল আরবের লোকেরা কীভাবে চলবে? তারাতো ছিল ডাকাত। তখন সে একটা ব্যবস্থা করলো যে আমার অনুসারীরা প্রতিবছর একবার একসঙ্গে মিলিত হবে। এর মধ্য দিয়ে একটা আয়-ইনকামের ব্যবস্থা হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমি হজ আর তাবলীগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী, জামায়াতে ইসলামীরও বিরোধী, তবে তার চেয়েও বেশি হজ ও তাবলীগ জামাতের।’
হজ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের এ প্রবীণ নেতা বলেন, ‘হজের জন্য ২০ লাখ লোক সৌদি আরবে গিয়েছে। এদের কোনো কাম নাই। এদের কোনো প্রডাকশন নাই। শুধু রিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা দিয়ে আসছে।’
এসময় তাবলীগ জামাতের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘তাবলীগ জামায়াত প্রতিবছর ২০ লাখ লোকের জমায়েত করে। নিজেদেরতো কোনো কাজ নেই। সারা দেশের গাড়িঘোড়া তারা বন্ধ করে দেয়।’
প্রধানমন্ত্রী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়েও সমালোচনাও করেন মন্ত্রী। এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কথায় কথায় আপনারা জয়কে টানেন কেন। ‘জয় ভাই’ কে? জয় বাংলাদেশ সরকারের কেউ নয়। তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নেবারও কেউ নন।’
ক্ষোভ-নিন্দার ঝড়, পদত্যাগ দাবি
বিভিন্ন মিডিয়ায় ও সামাজিক যোগাযোগ সাইটে লতিফ সিদ্দিকীর এই বক্তব্য প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিএনপি নেতারা তার পদত্যাগ এবং গ্রেপ্তারের দাবি জানান। এরশাদের পক্ষ থেকেও তার পদত্যাগ দাবি করা হয়। হেফাজতে ইসলাম তাকে ‘মুরতাদ’ আখ্যা দিয়ে তার পদত্যাগ দাবি করে। অন্যদিকে তাকে ফাঁসির দাবি জানিয়েছে ছুন্নী আন্দোলন বাংলাদেশ।
আওয়ামী লীগের নেতারাও তার এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরী এবং সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের পৃথক অনুষ্ঠানে এ প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাজেদা চৌধুরী বলেন, ‘মুখফোঁড়া কী বললো তাতে কেউ কান দেবেন না। জয় কে, সেটাও আপনারা সবাই জানেন।’
দুপুরে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে ঢাকা আরিচা মহাসড়কের উপর নির্মিত ফুটওভার ব্রিজ উদ্বোধন করে ওবায়দুল কাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সজিব ওয়াজেদ জয় আমাদের দলের ভবিষ্যৎ নেতা। তিনি প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন। তাকে নিয়ে মন্ত্রীর এমন বক্তব্য দেয়া ঠিক হয়নি। দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।’
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, ‘হজ ও তাবলীগ জামাতকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করে মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী দেড়শ কোটি মোসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন। ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রতি অবজ্ঞা করেছেন তিনি। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

Blogger Comment
Facebook Comment