সর্বশেষ খবর:

যে কারণে কমতে পারে যৌন উদ্দীপনা


সুখী ও সুন্দর দাম্পত্যের জন্য যৌন জীবনের সফলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জীবনসঙ্গীর প্রতি ভালবাসা ও বিশ্বাসের পাশাপাশি যৌন জীবনের সফলতাকেও তাই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল হলেও এই একটি বিষয়ের অসফলতা বয়ে আনতে পারে পারিবারিক কলহ, হতে পারে নানা ধরনের সামাজিক সমস্যার কারণ। যৌন উদ্দীপনা বা কাম আবেগ কমে যাওয়া যৌন জীবনে অসফলতার অন্যতম প্রধান কারণ এবং পেছনে নিয়ামক হিসেবে কাজ করে বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যা এবং জীবনাচরণ। অথচ জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিকে লজ্জাজনক ভেবে অনেকেই এড়িয়ে যান। কিন্তু উন্নত বিশ্বে তা পাঠ্যবইয়ের অংশ।

আসুন জেনে নেই কী কী কারণে একজন মানুষ এ স্পৃহা হারিয়ে ফেলতে পারে এবং এসব ক্ষেত্রে করনীয়-

১. মানসিক চাপ: মানসিক চাপ থাকা সত্ত্বেও একজন মানুষ দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারে, কিন্তু একটি কাজ সাধারণত হয়ে ওঠে না আর তা হল যৌন উদ্দীপনা বা কাম আবেগ অনুভব করা। মানসিক চাপ একজন মানুষকে তার যৌন জীবন সম্পর্কে ভাবার সময় কমিয়ে দেয় এবং সর্বোপরি তার যৌন স্পৃহা কমিয়ে দেয়। তাই পারিবারিক, সামাজিক এবং কর্মজীবনে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করার দক্ষতা অর্জন করা জরুরি। প্রয়োজনে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া যেতে পারে।

২. পারিবারিক বিবাদ: পারিবারিক বিবাদ বা সঙ্গীর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী শীতল সম্পর্ক যৌন স্পৃহা কমিয়ে দেয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। নারীদের ক্ষেত্রে কাম আবেগ অনুভব করার জন্য সঙ্গীর শারীরিক ও মানসিক নৈকট্য বা ঘনিষ্ঠতা প্রাপ্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নারীপুরুষ উভয়ের জন্যই ঝগড়া বা মারামারি, যোগাযোগের অভাব, বিশ্বাসঘাতকতা বা বিশ্বাসের অভাব ইত্যাদি যৌন স্পৃহা কমিয়ে দিতে পারে। তাই পারস্পরিক যোগাযোগ, আলাপচারিতা কিংবা ঘনিষ্ঠ কারো মধ্যস্থতায় পারিবারিক শীতল সম্পর্ক মিটিয়ে ফেলার মাধ্যমে স্বাভাবিক যৌন জীবনে ফিরে আসা সম্ভব।

৩. অনিদ্রা কিংবা কম ঘুম: শারীরিক বিশ্রাম এবং মানসিক প্রশান্তির জন্য গভীর ও পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ঘুমানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় বরাদ্দ না রাখলে অথবা অনিদ্রাজনিত সমস্যায় ভুগলে একজন মানুষের যৌন জীবন বিপর্যস্ত হতে পারে, কেননা শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি যৌন স্পৃহা কমিয়ে দেয়। তাই এ ধরনের সমস্যার সমাধানে আপনার ঘুমের অভ্যাসে পরিবর্তন আনুন এবং প্রয়োজনে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৪. ওষুধ সেবন: কিছু কিছু ওষুধ সেবনের ফলেও যৌন উদ্দীপনা কমে যেতে পারে। যেমন- অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টস, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত ওষুধ, বিশেষ জন্মবিরতিকরণ পিল, ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কেমোথেরাপি ইত্যাদি। ওষুধ পরিবর্তন কিংবা সেবনের মাত্রায় পরিবর্তন আনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। তাই কোনো ওষুধ সেবনের ফলশ্রুতিতে আপনার যৌন স্পৃহা কম অনুভূত হলে সংশ্লিষ্ট ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন। ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতীত কোনো অবস্থাতেই ওষুধ সেবন বন্ধ করবেন না।

৫. সাজপোশাক: সুন্দর ও পরিপাটি সাজপোশাক একজন মানুষকে আত্মবিশ্বাস দান করে যা মানসিকভাবে ব্যক্তিগত যৌন উদ্দীপনাকে প্রভাবিত করে। এছাড়া এটি সঙ্গীকেও আকৃষ্ট করতে সহায়তা করে।

৬. স্থূলতা বা মেদবহুল স্বাস্থ্য: স্থুলতা বা অতিরিক্ত স্বাস্থ্য যৌন উদ্দীপনা কমিয়ে দিতে পারে। খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন ও পর্যাপ্ত ব্যায়ামের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

৭. পুরুষের দুর্বলতা: এ ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি দেখা দেয় যা কাম আবেগ কমিয়ে দেয়। সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।

৮. পুরুষ হরমোন ঘাটতি: টেস্টেস্টেরন (হরমোন) পুরুষের যৌন উদ্দীপনাকে তরান্বিত করে। দেহে এ হরমোনের অভাব ঘটলে যৌন উদ্দীপনা হ্রাস পায়। সাধারণত অধিক বয়সের পুরুষরা এ সমস্যার সম্মুখীন হন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এ সমস্যারও সমাধান সম্ভব।

৯. বিষণ্ণতা: যৌন ক্রিয়ার সুখানুভূতি কমিয়ে দেয় বিষণ্ণতা। ফলশ্রুতিতে যৌন ক্রিয়ার প্রতি আগ্রহ কমে যায়। এ ক্ষেত্রে একজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। আপনার চিকিৎসক বিষণ্ণতার চিকিৎসায় কোনো ওষুধ ব্যাবহার করলে আপনার যৌন উদ্দীপনার ঘাটতিজনিত সমস্যার ব্যাপারে খোলামেলা আলোচনা করুন। কেননা বিষণ্ণতার চিকিৎসায় ব্যবহৃত অনেক ওষুধ যৌন উদ্দীপনা হ্রাস করতে পারে।

১০. রজোবন্ধ বা মেনোপজ: সাধারণত ৪৫ বৎসরের কাছাকাছি সময়ে নারীদের মাসিক বা ঋতুচক্র বন্ধ হয়ে যায়, যাকে রজোবন্ধ বা মেনোপজ বলে। এ সময়ে নারীদের যৌন উদ্দীপনাও কমে যায় এবং তারা যৌন ক্রিয়ার সময় নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা অনুভব করেন। তবে সঙ্গী ও সম্পর্কের প্রতি দায়িত্ববোধ, এবং সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার মাধ্যমে রজোবন্ধ বা মেনোপজ পরবর্তী সময়ও সুন্দর যৌন জীবন বজায় রাখা সম্ভব।

১১. মদ্যপান: অতিরিক্ত মদ্যপান যৌন উদ্দীপনা হ্রাস করতে পারে। তাই মদ্যপানে অভ্যস্ত ব্যক্তিরা যৌন জীবনের সাফল্যের কথা মাথায় রেখে মদ্যপান নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।
    Blogger Comment
    Facebook Comment