সর্বশেষ খবর:

‘এমন বাজে আম্পায়ারিং জীবনে দেখিনি’ - আতহার আলী খান

রোহিত শর্মাকে রুবেল হোসেনের করা ৪০তম ওভারের চতুর্থ বলে আম্পায়ারের ‘নো’ ডাকা নিয়ে ক্রিকেট দুনিয়ায় ঢের বিতর্ক। আম্পায়ার ইয়ান গৌল্ডের দেওয়া ‘নো’ বলটা যে স্পষ্ট ভুল ছিল, তা প্রমাণ হয়েছে এরই মধ্যে। প্রশ্ন আছে মাহমুদউল্লাহর আউটটি নিয়েও। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এমন আম্পায়ারিংয়ে ক্ষুদ্ধ, স্তব্ধ বাংলাদেশের দর্শক-সমর্থকেরা। একই প্রতিক্রিয়া জানালেন বাংলাদেশ দলের সাবেক তারকা ও বর্তমানে ধারাভাষ্যকার আতহার আলী খানও।
ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে। ঘরোয়া ক্রিকেট, কখনো কখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও বাজে আম্পায়ারিং দেখেছেন। তাই বলে বিশ্বকাপে এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে! সন্ধ্যায়  ক্ষোভের সঙ্গেই আতহার বললেন, ‘কোয়ার্টার ফাইনালে এমন বাজে আম্পায়ারিং! বিশ্বাসই করতে পারছি না এমন প্রশ্নবিদ্ধ আম্পায়ারিং দেখতে হবে। আই অ্যাম শকড!’

কেন ওই সময় তৃতীয় আম্পায়ারের সহায়তা নিলেন না মাঠের দুই আম্পায়ার, প্রশ্ন আতহারের, ‘জানি হাতে প্রযুক্তি আছে। তবুও কেন মাঠের দুই আম্পায়ার তৃতীয় আম্পায়ারের সহযোগিতা নিলেন না? বিশ্বাসই হচ্ছে না ব্যাপারটা! রুবেলের বলটা দুই আম্পায়ারই ‘নো বল’ ডেকেছেন। প্রথমে গৌল্ড ডাকলেন, এরপর আলিম দারও। যে কোনো আউটের সময় কিন্তু ব্যাটসম্যানকে দাঁড় করিয়ে দেন আম্পায়াররা। কারণ, সিদ্ধান্ত পরিষ্কার হতে কিছুটা সময় লাগে। কিন্তু রোহিতের বেলায় কিছুই করলেন না দুজন! যদি তারা একটু সময় নিতেন, টিভি রিপ্লে দেখতেন, তাহলে সিদ্ধান্ত বোলারের পক্ষেই থাকত। ধারাভাষ্যে থাকা শেন ওয়ার্ন পর্যন্ত বললেন, এটা বাজে সিদ্ধান্ত। কিছুতেই আউট হয়নি।’

আইসিসিকে বিষয়টি খতিয়ে দেখারও দাবি জানালেন আতহার, ‘জানি না, আইসিসির আইনে কী বলা আছে। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা উচিত আইসিসির। ‘‘বেনেফিট অব ডাউট’’ কখন হয়? যখন বিষয়টা পরিষ্কার বোঝা যায় না। তখনই থার্ড আম্পায়ারের সহায়তা নেওয়া হয়। এ ম্যাচে তা হলো কি? তবে দেখেন, মাহমুদউল্লাহর আউটটা আবার তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে গিয়েছে। কিন্তু এমন সিদ্ধান্তের সময় বারবার ক্যামেরা জুম করে দেখতে হয়। প্রশ্ন ছিল, ধাওয়ানের পা দড়ি স্পর্শ করেছে কি করেনি। এমন প্রশ্নের উত্তর পেতে দূর থেকে দেখার মানে হয় না! ক্যামেরা জুম করে বারবার ধাওয়ানের বাঁ পা দেখতে পারতেন তৃতীয় আম্পায়ার। কিন্তু তিনি ওই অ্যাঙ্গেলে দেখলেনই না। কী অবাক কাণ্ড!’
এটা ঠিক, রোহিতের আউটটা হলেই যে বাংলাদেশ জিতত, তা নয়। তবে ম্যাচের চেহারাটা নিশ্চয় অন্য রকম হতে পারত। কারণ, আম্পায়ারের ওই ভুল সিদ্ধান্তের সময় রোহিতের রান ছিল ৯০। এরপর বাকি ৪৭ রান করলেন ২৫ বলে। আতহার তাই বললেন, ‘সন্দেহ নেই, ভারত আমাদের চেয়ে শক্তিশালী দল। বলছি না, সিদ্ধান্ত ভিন্ন হলেই বাংলাদেশ জিতে যেত। কিন্তু রোহিত ওই সময় আউট হলে ভারতের সংগ্রহ কম থাকত। ৩০০ রানের বেশি তাড়া করা আর ৩০০ রানের কম তাড়া করা—দুটো ভিন্ন বিষয়।’
তবে এ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রাপ্তি অনেক। যে লক্ষ্যে খেলতে গিয়েছিল বাংলাদেশ, সেটি পূরণ হয়েছে। এ কারণে মাশরাফিদের ‘স্যালুট’ দিচ্ছেন আতহার, ‘আমাদের নায়কদের প্রাপ্য মর্যাদা দিতেই হবে। কখনো ভাবিনি, বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনাল খেলবে। যে খেলা তারা উপহার দিয়েছে, সাধুবাদ জানাতেই হবে। হ্যাটস অফ টু আওয়ার হিরোজ! ’

    Blogger Comment
    Facebook Comment