ঘুম বা নিদ্রা হচ্ছে মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণির দৈনন্দিন কর্মকান্ডের ফাঁকে বিশ্রাম নেওয়ার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যখন সচেতন ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া স্তিমিত থাকে। নিষ্ক্রিয় জাগ্রত অবস্থার সাথে ঘুমন্ত অবস্থার পার্থক্য হল এ সময় উত্তেজনায় সাড়া দেবার ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং শীতনিদ্রা বা কোমার চেয়ে সহজেই জাগ্রত অবস্থায় ফেরত আসা যায়।
সাধারণত মানুষ গ্রহ, উপগ্রহ নিয়ে নতুন নতুন তথ্য জানার কৌতূহল দেখায়। কিন্তু এগুলো ছাড়াও যে প্রতিদিন কত নতুন নতুন তথ্য জানা যায় তা অনেকেই জানেন না।
জানা গেছে, কাপড়-চোপড় পরে ঘুমানোর চেয়ে কাপড় না পরে ঘুমানোয় উপকার বেশি। চলুন জেনে নেয়া যাক কী কী সুফল আছে এতে।
রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে
গলা ও কোমড়বন্ধ পোশাক শরীরের নিন্মাঙ্গে স্বাভাবিক রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এতে নানান রোগ সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে। কিন্তু নগ্নভাবে ঘুমে শরীরের রক্ত চলাচলকে স্বাভাবিক থাকে। যা শরীরের পেশি ও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অঙ্গকে সতেজ ও স্বাস্থ্যবান রাখতে সাহায্য করে।
সুখী করে
ইউএসএ কটন ২০১৪ সালে এক জরিপ চালিয়ে দেখেছে, জরিপে অংশ নেয়াদের মধ্য যাঁরা নগ্ন হয়ে ঘুমাতে অভ্যস্ত, তাদের মধ্যে শতকরা ৫৭ ভাগই মনে করেন যে তারা সুখী। তবে যারা পাজামা পরে ঘুমান তাদের মধ্যে সুখী যুগল ছিলো শতকরা ৪৮ ভাগ।
আত্মবিশ্বাসী করে তোলে
অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্য যে, নগ্ন ঘুম নিজের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। করে তোলে আত্মবিশ্বাসী।
ঘুমের গুনগত মান বেড়ে যায়
যাঁরা কাপড় পরে ঘুমান তাঁদের কি ঘুম ভালো হয় না? না, এমন কথা কেউ বলেনি। তবে ২০০৪ সালের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, শরীরের তাপমাত্রা ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই গরমে কাপড় পরে ঘুমালে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, তাতে ঘুম ভালো হয় না। সে অবস্থায় শরীরে কোনো কাপড় না থাকলে ক্ষতি নেই, বরং লাভই বেশি, কেন না ঘুম হবে দারুণ!
নারীর জন্য ভালো
কসমোপোলিটান ম্যাগাজিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ডাক্তার জেনিফার লান্ডা জানান, সব সময় কাপড় পরে ঘুমালে মেয়েদের বিশেষ কিছু রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তিনি জানান, কাপড় পরার ফলে শরীরের তাপমাত্রা একটু বেশি থাকে আর তাপমাত্রা খুব বেশি হলে মেয়েদের যোনিপথের আশপাশে খুব তাড়াতাড়ি ছত্রাক বা ব্যাক্টেরিয়া বাড়তে থাকে।
গুহাবাসীদের মতো.....
নিউরোলজিস্ট ব়্যাচেল সালাস ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দু’বছর আগেই বলেছিলেন, গুহামানবদের মতো আধুনিক, ফ্যাশন সচেতন মানুষেরও গায়ে সুতা না রেখে ঘুমানো ভালো। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের পূর্বসূরীরা একসময় নগ্নই ঘুমাতেন৷ মাংসাসী প্রাণীদের হাত থেকে বাঁচার জন্য তাঁরা মূলত গুহায় ঘুমাতেন এবং তা নগ্ন হয়ে। তাই নগ্ন হয়ে ঘুমালে আজও আমরা কিছুটা নিরাপদ বোধ করি।’’
তথ্যসূত্র: ডয়েচভেল, ইউএসএ কটন

Blogger Comment
Facebook Comment