সর্বশেষ খবর:

নতুন ফল তিশা


বাংলাদেশে প্রথম উৎপাদিত ফল তিশা। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এ ফলটি ভিটামিন এ ও সি সমৃদ্ধ। ২০০২ সালে ফিলিপাইন থেকে এ ফলের চারা রামগড় কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে আনা হয়। এরপর ২০০৯ সালে প্রথম অল্পসংখ্যক ফল আসে গাছে। খাগড়াছড়ির রামগড় পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্র বিদেশি ফল তিশার পরীক্ষামূলক চাষে সফল হয়েছেন কৃষিবিজ্ঞানীরা। এখানে কর্মরত বিজ্ঞানীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় গত বছর থেকে প্রতিটি গাছে ব্যাপক ফল এসেছে। বর্তমানে মূল্যায়ন পর্যায়ে থাকলেও খুব শিগগিরই ছাড়পত্র পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

রামগড় কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জুলফিকার আলী ফিরোজ জানান, তিশার গাছ ১০ থেকে ১৫ মিটার লম্বা হয়। পাতা মসৃণ, গাঢ় সবুজ, উপবৃত্তাকার থেকে ডিম্বাকৃতি এবং বিপরীতভাবে সাজানো। ফুল সবুজাভ সাদা এবং বোঁটা লম্বা হয়। কাঁচা অবস্থায় ফল ডিম্বাকার থেকে লম্বাটে এবং মাথা ভোঁতা হয়। পাকার পর হলুদাভ কমলা রং ধারণ করে। পাকা ফল প্রায় ৭ সেমি. লম্বা এবং ওজন ১২৫ গ্রাম পর্যন্ত হয়। ফল মিষ্টি এবং দেখতে ডিমের কুসুমের মতো। তাই একে ডিমফলও বলা হয়। ফলের খাদ্যোপযোগী অংশ প্রায় ৯৪.৩ শতাংশ এবং মিষ্টতা ২২.৫ শতাংশ। পাকার পর ফল আহরণ করে সাধারণ আবহাওয়ায় প্রায় ২২ দিন পর্যন্ত রাখা যায়। গাছপ্রতি ১৫০ থেকে ১৬০টি পর্যন্ত ফল ধরে। সারা বছরই গাছে ফল থাকে। হেক্টর প্রতি ফলন ৯.৩৮ টন।


শ্যামল রুদ্র
লেখক : সাংবাদিক
    Blogger Comment
    Facebook Comment