সর্বশেষ খবর:

বগুড়ায় সমকামি দুই ছাত্রী আটক


বগুড়া: বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সমকামিতা এবং সমকামি অধিকার আন্দোলন নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে। ইউরোপের অনেক দেশ সমকামি বিয়ের বৈধতাও দিয়েছে। বাংলাদেশের মতো মুসলিমপ্রধান দেশে এমন আন্দোলন বা বৈধতার সম্ভাবনা স্বপ্নাতীত। কিন্তু আড়ালে আবডালে যে এমন ঘটনা ঘটছে না তা নয়। যেমনটি ধরা পড়লো বগুড়ায়। দুই স্কুলছাত্রী বাড়ি থেকে পালিয়ে ‍গিয়ে এ কাজ করেছে। পরে অভিভাবকদের অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের আটক করে থানায় নেয়া হয়। এর মধ্যে একজন অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপরজনের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ।

তারা দু’জন বাড়ি থেকে উধাও হওয়ার দু’দিন পর বুধবার দুপুর ১টার দিকে বগুড়া শহরের মালতিনগর এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ।

স্কুলছাত্রীরা হলো- বগুড়া সদরের ফাঁপোড় ইউনিয়নের বেলগাড়ি গ্রামের মোহন ব্যাপরীর মেয়ে জুবলী ইনস্টিটিউশনের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী তামান্না আক্তার স্মৃতি ওরফে তন্বি ওরফে মনিরা (১৭) এবং শহরের জহুরুল নগর এলাকার গোলাম রসুলের মেয়ে ইয়াকুবিয়া স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী মিমি ওরফে শিলা।

পুলিশ জানায়, মিমির বাবার অভিযোগের সূত্র ধরে পুলিশ শহরের মালতিনগর এলাকার একটি বাসা থেকে তামান্না এবং মিমিকে উদ্ধার করে। দু’জনকেই থানায় নিয়ে আসার পর মিমি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

থানায় আটক তামান্না জানায়, মিমি জহুরুল নগর এলাকায় বোনের বাসায় থেকে লেখাপড়া করে। এই সুযোগে দু’জনের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব তৈরি হয়। তারা দু’জন শারীরিকভবে মিলিত হতে গত ১ জুন বাসা থেকে পালিয়ে মালতিনগরে পরিচিত একজনের বাসায় ওঠে। সেখান থেকে বুধবার পুলিশ তাদেরকে থানায় নিয়ে আসে। তামান্না সপ্তম শ্রেনীতে লেখাপড়া করলেও তার বয়স ১৭ বলে দাবি করে এবং একটি বামপন্থি রাজনৈতিক দলের কর্মী বলে সাংবাদিকদের জানায়।

বগুড়া সদর থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন জানান, মিমিকে সমকামিতায় জড়াতে প্ররোচিত করার অভিযোগে তামান্না আক্তারকে আটক করা হয়েছে। সমকামিতা এবং যৌন নীপিড়নের কারণে মিমি অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মিমির বাবা তামান্নার বিরুদ্ধে অপহরণ এবং যৌন নীপিড়নের অভিযোগ দাখিল করলে তা মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হবে।

বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার সাইফুজ্জামান ফারুকী জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে সমকামিতার জন্য মিমিকে একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছিল। মিমি অসুস্থ হয়ে পড়ায় তার কাছে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। এ ঘটনায় অপহরণ করে যৌন নীপিড়নের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় মামলা হবে।
    Blogger Comment
    Facebook Comment