অবশেষে ভাঙলো ‘বিমান আপা’র অসামাজিক কাজের দুর্গ
বরিশাল ব্যুরো – পিরোজপুর সদর থানা থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে বিমান আপা’র মালিকানাধীন আবাসিক হোটেলে অবৈধ দেহ ব্যাবসা চলে আসার অভিযোগ ছিলো বেশ কিছুদিন ধরেই। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার সকালে আকস্মিক র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে রাব্বি নামের ঐ আবাসিক হোটেল থেকে খদ্দের ও যৌনকর্মী ও ম্যানেজারসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ । এসময় তাদের তাৎক্ষণিক বিচারে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এ সময় তারা দেহ ব্যবসার কিছু আলামতও উদ্ধার করে। পিরোজপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ কামরুজ্জামান ভ্রাম্যমান আদালতে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে জেল দেন। সাজাপ্রাপ্তরা হল হোটেল ম্যানেজার বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার হোগলাপাশা গ্রামের অরুন মিস্ত্রী (৬০), জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার ভিটা বাড়িয়া গ্রামের লোকমান হোসেন (৪০), একই গ্রামের পারভীন আক্তার (৩০) ও সদর উপজেলার কালিকাঠী গ্রামের মোসাম্মাত সোনিয়া (৩০)।
ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক মোঃ কামরুজ্জামান জানান, ওই হোটেলে অসামাজিক কাজ পরিচালনার দায়ে হোটেল ম্যানেজারকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও বাকীদের প্রত্যেককে ৭ দিন করে কারাদন্ড দেয়া হয়েছে।
স্থানীয় নানা সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, থানা সড়কে থাকা রাব্বি নামের ওই আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষে রয়েছে বাংলাদেশ মানবাধিকার ইউনিট পিরোজপুর জেলা শাখার চেয়ারম্যানের কার্যালয়। হোটেলের মালিক মর্জিনা বেগম বিমান সদর আসনের এমপি আউয়ালের আপন বোন। তার স্বামী আ. হাকিম একজন অবসরপ্রাপ্ত ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার।র্যাব-পুলিশের অভিযানে খদ্দেরসহ যৌনকর্মী গ্রেফতারের পর তিনি সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের বলেন, হোটেলের মালিক তার স্ত্রী। এর সবকিছু সরাসরি তিনিই দেখাশুনা করেন। তবে হোটেলের এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না।
বিষয়টি সম্পর্কে কথা বলার জন্য বিমান আপা নামে পরিচিত এমপি আউয়ালের বোনের সঙ্গে অনেকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে হোটেল সংলগ্ন এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বেশ খানিকটা বেপরোয়া ছিলেন বিমান আপা। ভাই এমপি হওয়ায় কোনোকিছুরই তোয়াক্কা করতেন না। তার মালিকানাধীন আবাসিক হোটেলে দেহ ব্যবসার বিষয়টিও নতুন নয়। থানা রোডসহ পুরো পিরোজপুর শহরের লোকজন বিষয়টি জানলেও ভয়ে কেউ কখনও মুখ খোলেনি।
র্যাব ও পুলিশ সদস্যরা হোটেল থেকে প্রচুর পরিমানে কন্ডমও উদ্ধার করে। পরে সেগুলো হোটেল প্রাঙ্গনে পুড়িয়ে ফেলা হয়।
প্রসঙ্গত, রাব্বী হোটেলটি শহরের কিয়ামউদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ঘেঁষে এবং পিরোজপুর সদর থানা ও শহর পুলিশ ফাঁড়ির মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই হোটেলে দিনে এবং রাতে সময় অসামাজিক কার্যক্রম চলে আসছে ।
সূত্র ঃ সময়ের কণ্ঠস্বর

Blogger Comment
Facebook Comment