কীটপতঙ্গের রেস্তোরাঁ
বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা ঘুড়লে দেখা মিলবে অদ্ভুত সব রেস্তোরাঁর। আর সেইসব রেস্তোরাঁয় খাবার পরিবেশনেও থাকে ভিন্নতা। ভোজনপ্রিয় মানুষেরা বিভিন্ন দেশের নানারকম খাবারের স্বাদগ্রহন করার জন্য ভিড় করে রেস্তোরাগুলোতে। জীবন্ত মাছ থেকে শুরু করে নানারকম খাবার দিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভোজন প্রিয়দের। ব্যাঙ, সাপ, তেলাপোকা খাওয়ার কথা সচারচর শোনা গেলেও এর জন্য আলাদা করে রেস্তোরার কথা শোনা যায়নি এখন পর্যন্ত। তবে ব্রিটেনে প্রথম খুঁজে পাওয়া গেল এমন একটি রেস্তোরা যার প্রতিদিনের খাবার তৈরি হয় নানারকম পোকামাকড় বা কীটপতঙ্গ দিয়ে।
পোকামাকড় দিয়ে তৈরি খাবারের এই রেস্তোরাঁটির নাম গ্রাব কিচেন। এই রেস্তোরার খাবার তৈরির জন্য পোকামাকড় আনা হয় সুদূর ভারত মহাসাগরের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মাদাগাস্কার থেকে। এর আগে এই রেস্তোরাঁর প্রতিষ্ঠাতা পেমব্রোকশায়ার একটি তেলাপোকা কোম্পানি খোলার জন্য একজন সফল সামাজিক উদ্যোক্তা হিসেবে পুরস্কার গ্রহণ করেছিলেন। বড়দিন আসার আগেই রেস্তোরাঁটিতে চলছে অগ্রিম বুকিংয়ের ভিড়। ক্ষুদ্র কীটপতঙ্গে দিয়ে তৈরি খাবারগুলো ব্রিটেনবাসীদের কাছে খুব জনপ্রিয়।
তিন বেলাই নানারকম খাবারের সমাহার রয়েছে রেস্তোরাঁটিতে। সন্ধ্যার মেন্যুতে রেস্তোরাঁটিতে পাওয়া যাবে ঘাস ফড়িং ও ঝিঁঝিঁপোকা দিয়ে তৈরি নানারকম খাবার। ঘাসফড়িং ও ঝিঁঝিঁপোকা দিয়ে তৈরি খাবার দক্ষিণ আফ্রিকার মজাদার খাবারের মধ্যে একটি। এবার এই কৌশল রপ্ত করে নিল ব্রিটিশরাও। সম্পূর্ণ ঘরোয়া পরিবেশে পরিবেশন করা হয় খাবারগুলো। ছোটদের জন্যও থাকে নানারকম মজাদার আইটেম। বাগ বার্গার বা ক্ষুদ্র কীট দিয়ে তৈরি বার্গার রেস্তোরাঁটির একটি জনপ্রিয় খাবার। ঘাসফড়িং দিয়ে সুন্দর করে সাজিয়ে প্লেটে পরিবেশন করা হয়। আর এই বার্গারটির স্বাদ অন্যান্য সব সাধারণ বার্গারের মতোই।
রেস্তোরাঁটির মালিক বলছেন অন্যান্য খাবারের তুলনায় পোকামাকড় দিয়ে তৈরি খাবার বেশ স্বাস্থ্যসম্মত হয়। এতে মুরগী ও গরুর মাংসের মতো চর্বি থাকে না। তবে এতে পরিমিত মাত্রায় প্রোটিন রয়েছে। ফলে যেকোন বয়সীর মানুষ এর স্বাদ গ্রহণ করতে পারবে। তিনি আরো বলেন, এখানে সবাই আসে নতুন কিছু খাওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে। আমরা খাবার পরিবেশনের মধ্যে দিয়ে কীটপতঙ্গ যে প্রোটিন হিসেবে খাওয়া যায় এই তথ্য সবার কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করি।

Blogger Comment
Facebook Comment