১৯৯১ সালে লেসলি হিলবার্ন ফ্যাবিয়ান বিয়ে করেছিলেন সার্জন ডেভিড ফ্যাবিয়ানকে। দুজনের বয়সই তখন চল্লিশের ছুঁই ছুঁই। লেসলি এজন সাইকোথেরাপিস্ট এবং স্বাধীনভাবে কাজ করতেন। তাদের সাংসারিক জীবনের ২৩ বছর পেরিয়েছে। শুধু মাঝখানে একটি বিশাল পরিবর্তন ঘটে গেছে। লেসলির প্রাণপ্রিয় স্বামী ডেভিড এখন ডেবোরা নামের এক নারীতে পরিণত হয়েছেন। লেসলি তেইশ বছর আগে যেমন ভালোবাসতেন ডেভিডকে, এখন আরো বেশি ভালোবাসেন ডেবোরাকে। বছর তিনেক হলো তার স্বামী লিঙ্গ বদলে নারী হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে লেসলির অনুভূতি সরল, আমার পুরুষ স্বামী এখন একজন নারী স্বামী। তার এই বিবর্তনে আমিও আচ্ছন্ন হয়ে রয়েছি।
বলতে থাকলেন লেসলি, চল্লিশের কাছাকাছি পৌঁছে আমরা বিয়ে করি। দুজনেরই আগের ঘরের সব মিলিয়ে ৬ জন ছেলে-মেয়ে রয়েছে। মাঝেমধ্যে আমার স্বামী নারীদের সাজে সাজতেন, নারীদের পোশাক পরতেন। এতে মজা পেতাম আমি। তবে তাকে স্বামী হিসেবে তাকে আমি পুরুষ হিসেবেই বেশি চাইতাম।
তবে বছরের পর বছর ধরে একটি বিষয় লক্ষ্য করেছি। তা হলো, নারীদের সাজ থেকে বেরিয়ে আসার পর তার মন ভালো থাকতো না। এর প্রভাব আমাদের সেক্সুয়াল জীবনেও পড়েছে। আমাদের দাম্পত্য জীবনে বিছানায় ভালোবাসায় সিক্ত হওয়া নিয়ে আমার ফ্যান্টাসি ছিলো। সেই ফ্যান্টাসিতে আমি তাকে আরেকজন নারী হিসেবে কল্পনা করতে শুরু করলাম। এক সময় বুঝতে পারলাম, ডেভিডের মধ্যে মেয়ে হওয়ার চেয়ে বেশি কাজ করতো নিজের মধ্যে থেকে পুরুষত্বকে ফেলে দেওয়ার তাগিদ। সে বিষয়টি নিয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তার এই চাওয়া এতটাই গভীর ছিলো যে আমি বুঝতে পারি কোনো থেরাপিস্ট বা মনোবিজ্ঞানী তার সমস্যার সমাধান করতে পারবেন না।
এই নারী-পুরুষের বিয়ের অর্থ তাহলে কী দাঁড়ায়- এ নিয়ে প্রশ্নও করেছি তাকে, জানান লেসলি। তবে অনুভব করছিলাম যে, আমি এমন একজনের সঙ্গে রয়েছি যে পুরুষটি আমার জীবনে নেই। অথচ সে একজন নারী হয়ে উঠলে আমারা আগের মতোই ভালোবাসতে পারবো। প্রায় ছয় যুগেরও বেশি সময় ধরে এই যুদ্ধ চালিয়ে আসছে ডেভিড। একট পর্যায়ে বুঝতে পারলাম, তার এখন একজন পূর্ণাঙ্গ নারী হয়ে ওঠা জরুরি।
তবে এর আগে আমরা বেশ কয়েকজন থেরাপিস্ট এবং বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়েছি। আমি নিজেও থেরাপিস্ট হয়েও তাদের পরামর্শ নিয়ে বহু ওয়ার্কশপ করেছি, মানসিক ব্যায়াম চলেছে, ঘুরে বেড়িয়েছি এবং বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি। দিনের শেষে রাতে বিছানায় শুয়ে আমাকে ধরে অঝোর ঝারায় কান্না ছিলো তার শেষ পরিণতি। বরং দিনে দিনে নারী হয়ে ওঠার জন্য তার আগ্রহ-উদ্দীপনা বাড়তেই থাকলো।
অবশেষে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে, আমি আমার স্বামীকে ছেড়ে যেতে পারবো না, সে পুরুষই হোক বা নারী। আমার এ দূরাস্থাতে সেও আমাকে স্বান্তনা দিতো। সে বলতো, আমি হঠাৎ করেই নারী হয়ে গেলে তোমাকে হারাতে হবে। তাই আমি এই প্রক্রিয়াটি ধীরে ধীরে কার্যকর করবো এবং তা চলতে চলতে আজ ডেভিড হয়েছেন ডেবোরা।
প্রথম সম্পর্কের ক্ষেত্রে যেখানে সেক্স ছিলো অন্যতম বিষয়, এখন সেখানে স্থান নিয়েছে আত্মিক যোগাযোগ। তারা এখন আরো বেশি গভীরভাবে একে অপরকে অনুভব করেন, ভিন্ন প্রক্রিয়ায় ভালোবাসার প্রকাশ ঘটান এবং পরস্পরকে নতুনভাবে আবিষ্কার করছেন।
নারী স্বামীর প্রতি লেসলির অনুভূতির ভাষা হলো, প্রথমেই আমি তার নতুন গন্ধে মুগ্ধ হয়ে যাই। তাকে আরো বেশি ভালোবাসতে থাকি। প্রায় তিন বছর হতে চললো আমরা এখানকার পরিবেশে নতুনভাবে সময় কাটাচ্ছি। আমরা এখন একে অপরকে অনেক বেশি আন্তরিকতা এবং গভীরতার সঙ্গে উপলব্ধি করছি এবং বেঁচে রয়েছি। এর আগে তাকে আমি এতো সুখী এবং খুশি দেখিনি। তার এই সুখে দেখে আমিও আগের চেয়ে অনেক বেশি সুখী।
'আমার স্বামী এখন একজন নারী এবং তাকে আরো বেশি ভালোবাসি!!!!

Blogger Comment
Facebook Comment