সর্বশেষ খবর:

বাংলাদেশের মেয়ে মাকসুদা মিস আয়ারল্যান্ড



প্রতিযোগিতার মঞ্চে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের কথা যখনই মনে হয়েছে, তখনই নিজের ভেতর আলাদা একটা অনুভূতি কাজ করেছে। মনে হয়েছে আমাকে পারতেই হবে! আমি পেরেছি! আমি এ বছরের মিজ আয়ারল্যান্ড।'


সহজ প্রশ্ন ছিল মাকসুদা আকতারের কাছে। মিজ আয়ারল্যান্ড হওয়ার পর অনুভূতি কী? দূর দেশ থেকে মুঠোফোনে জানালেন ওপরের কথাগুলো। অবশ্য বলার ভঙ্গিতে একটুও মনে হলো না, এ কথামালা মুঠোফোনে ভেসে আসছে। মনে হচ্ছে সামনে বসে হড়বড় করে বলে যাচ্ছেন আয়ারল্যান্ডের এ সুন্দরী। মিজ আয়ারল্যান্ড-২০১৪ খেতাব পেয়েছেন। কে জানত, ঢাকার ফার্মগেটে বড় হওয়া মেয়েটি একদিন আয়ারল্যান্ডবাসীর স্বপ্নের রাজকন্যা হবেন। মাকসুদা আকতারের কাছেও ঘটনাটা স্বপ্নের মতোই। স্বপ্নময় জগতে পা রাখা থেকে শুরু করে বিজয়ী হওয়ার দিন পর্যন্ত—পুরোটাই স্বপ্নের পথ ধরে হেঁটেছেন। তাঁর সঙ্গে হেঁটেছে বাংলাদেশও। না হলে কেন বাংলাদেশ আর প্রিয়তির নাম মিলেমিশে একাকার হবে খোদ আয়ারল্যান্ডে!
সেসব গল্প অবশ্য মাকসুদা আকতারের কাছে একটু ফিকে হয়েছে বটে। কিন্তু অনুভূতিটা আগের মতোই! আগের অনুভূতি আর বর্তমান কর্মকাণ্ড নিয়েই কথা হয় মাকসুদা আকতারের সঙ্গে। প্রিয়তি নামেই বেশি পরিচিত তিনি।

ফার্মগেট টু ডাবলিন
প্রিয়তির জন্ম ঢাকায়। ফার্মগেট এলাকায়। বেড়ে উঠেছেন এখানেই। পড়েছেন স্থানীয় একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে। ও লেভেল শেষ করে ১৩ বছর আগেই পাড়ি জমিয়েছিলেন আয়ারল্যােন্ড। উদ্দেশ্য পড়াশোনা। ব্যবসায় প্রশাসনে পড়াশোনা করছেন। তারপর বিমান চালনার ওপর প্রশিক্ষণ! ডাবলিনে থিতু হয়েছেন অনেক দিন। ওই শহরের স্থায়ী বাসিন্দাই বলা চলে তাঁকে। কিন্তু সেরা সুন্দরী হওয়ার যুদ্ধে শামিল হলেন কী করে?
'আমি ছোটবেলা থেকেই মডেলিংয়ে আগ্রহী ছিলাম। দেশে থাকতেও টুকটাক কাজ করেছি। ডাবলিনে আসার পর পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। কিন্তু আগ্রহটা তো মনে রয়েই গেছে। একদিন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখি। মিস এবং মিজ নামে দুই বিভাগে সুন্দরী নির্বাচন দেওয়া হবে। ২৪ বছরের নিচের বয়সীরা লড়বে মিস বিভাগে আর ২৪ বছরের ওপরের সবাই লড়বে সেরা "মিজ" হওয়ার প্রতিযোগিতায়। বিজ্ঞাপন দেখেই নিশ্চিত হই, আমি এর জন্য পারফেক্ট। যথারীতি আবেদন। বাকিটা তো সবার জানা।'
সবার জানা থাকলে কী হবে, প্রিয়তির জন্য পথটা মোটেও মসৃণ ছিল না। একে তো বিদেশ বিভুঁইয়ে একাকী জীবন, তার ওপর প্রায় ৭০০ জন প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার যুদ্ধ। নাওয়া-খাওয়া ভুলে নিজেকে তৈরি করেন। একটু মুটিয়ে যাওয়া বেয়াড়া শরীর রীতিমতো ডায়েট কন্ট্রোল করে 'সাইজ' করেন। জিম তো নিয়মিতই যাতায়াতের কেন্দ্রস্থল হয়ে যায়। সঙ্গে বাগে আনেন মনটাও। তারপর জীবনের যুদ্ধই শুধু নয়, সুন্দরী হওয়ার পথেও এগিয়ে যেতে থাকেন ক্রমেই। আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। কয়েক ধাপ অতিক্রম করে সেরা মুকুট ছিনিয়ে নেন এ বছরের শুরুতে। কপালে সেঁটে যায় 'মিজ আয়ারল্যান্ড' তকমা। শুধু তা-ই নয়, একই সঙ্গে পেয়েছেন 'সুপার মডেল' ও মিজ ফটোজেনিক' খেতাব। ছিল 'টপ মডেল ইউকে'তে অংশ নেওয়ার সুযোগও।

পাল্টে যাওয়া জীবন

প্রিয়তির জীবন বদলে গেছে। এখন যেখানেই যান, ভক্তকুলের ভিড় সামলাতে হয়। মডেলিং শুধু নন, এরই মধ্যে ন্যাশনাল ফ্লাইট সেন্টার থেকে বৈমানিক হিসেবে প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন। ফ্লাইট ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করছেন আয়ারল্যান্ডের 'নিউ ক্যাসেল এয়ারফিল্ড' নামের একটি প্রতিষ্ঠানে। আর মডেলিং? ওখানেও সফল পদচারণ আছে তাঁর। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নামীদামি সব ফটোগ্রাফারের সঙ্গে কাজ করছেন। সম্প্রতি আয়ারল্যান্ডের আরও একটি প্রতিযোগিতায় 'মিস হট চকলেট' নির্বাচিত হয়েছেন। আর হ্যাঁ, এপ্রিলে পা রেখেছিলেন যুক্তরাজ্যে। সেখানে হাজার হাজার প্রতিযোগীর মধ্য থেকে সেরা ২৫-এ জায়গা করে নিয়েছেন প্রিয়তি।

স্বপ্নের পথে...
মাকসুদা আকতারের দুটো স্বপ্ন। এক. একজন সফল বৈমানিক, দুই. টপ মডেল হওয়া। দুটো স্বপ্নের অনেক কাছাকাছি চলে গেছেন আট ভাইবোনের মধ্যে এ মেয়েটি। দেশে থাকা স্বজনেরাও তাঁর সাফল্যে গর্বিত। গর্বের জায়গা করে দিতে চান দেশের মানুষদেরও। 'আমি বাংলাদেশ এবং এ দেশের মানুষকে অনেক ভালোবাসি। কোনো ধরনের কাজের সুযোগ পেলেই চলে আসব বাংলাদেশে।' বলছিলেন প্রিয়তি।


সূত্র- (প্রথম আলো)

f
    Blogger Comment
    Facebook Comment