অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি। গতকাল সোমবার সকালে লালমনিরহাটের পৌর এলাকার বিভিন্ন কাঁচা বাজারগুলোতে দেশী প্রজাতির ছোট মাছ প্রতি কেজি ১০ টাকা থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
সরেজমিনে গোশালাবাজার, সেনামেত্রী হকার্স মার্কেট, কলেজ বাজার, নবাবেরহাট, নয়ারহাট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতারা লাইন দিয়ে পুটি, মলা-ঢেলা, ভাংনা মাছ কিনছে। অনেকে আবার কমমূল্যের সুযোগে বস্তায় করে ১০ কেজি থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত মাছ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
মুদি দোকান ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম জানান, সকাল বেলা কাঁচা বাজারে গিয়ে তিনি বিপুল পরিমান দেশী ছোট মাছের সরবরাহ দেখতে পান। পরে তিনি ১৫০ টাকায় ১৫ কেজি মাছ কিনে নেন। তিনি আরও জানান, প্রথম দিকে ক্রেতার সংখ্যা কম থাকলেও দ্রুত মাছের কম দামের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্রেতাদের ভিড় বেড়ে যায়।
অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান প্রতিবেশীর কাছে মাছের কম দামের খবর পেয়ে বাজার থেকে ১০০ টাকায় ১০ কেজি মাছ কিনে আনেন। তিনি বলেন, কম দামের সুবাদে ফ্রিজে রেখে কয়েকদিন ধরে খাওয়া যাবে বলেই বেশী করে মাছ কিনেছি।
গোশালা বাজারের মাছ বিক্রেতা আশরাফুল জানান, কয়েকদিন আগেও একই মাছ তিনি দু’শ টাকা থেকে আড়াই’শ টাকায় বিক্রি করেছেন। একসাথে অনেক মাছ চাষী মাছ নিয়ে আসায় সরবরাহ কয়েকগুন বেড়ে যায়। ফলে পঁেচ যাওয়ার আশংকায় কম দামে সবাইকে মাছ বিক্রি করতে হচ্ছে।
তবে মাছের দাম কম হওয়ায় ক্রেতাদের পোয়াবারো হলেও মাছ চাষীদের ভাগ্যে ঘটে গেছে উল্টো ঘটনা। গত শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা ৩৬ ঘন্টার প্রবল ভারী বর্ষনে লালমনিরহাটের পৌর এলাকাসহ আশেপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের বহু মাছের খামার, ছোট বড় পুকুর পানিতে তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে এসব জলাশয়ের কয়েক কোটি টাকার মাছ।
মাছ চাষীরা জানিয়েছেন, আর্থিকভাবে তাদের যে ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে তা আগামী দু’তিন মৌসুমেও পুষিয়ে নেয় সম্ভব হবে না।

Blogger Comment
Facebook Comment