সর্বশেষ খবর:

লতিফ সিদ্দিকীর বহিষ্কার দাবি হেফাজতের


পবিত্র হজ ও বিশ্ব নবী হযরত মুহাম্মদকে (স.) বিদ্রুপাত্মক ভাষায় তাচ্ছিল্য করার অভিযোগ এনে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর বহিষ্কার দাবি করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

সোমবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে হেফাজত ইসলামের নেতারা বলেন, ‘বিশ্বনবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ পৃথিবীর কোটি কোটি মুসলমানের কাছে নিজের জীবনের চাইতে প্রিয় ব্যক্তিত্ব। অন্যদিকে হজ মুসলমানদের প্রধান পাঁচটি মৌলিক ধর্মীয় স্তম্ভের অন্যতম।’

নেতারা আরো বলেন, ‘পবিত্র হজ ও হাজীদের কটাক্ষ করা মহানবীকে (স.) বিদ্রুপাত্মক ভাষায় তাচ্ছিল্য করার স্পর্ধা দেখিয়ে বর্তমান সরকারের মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী নিউ ইয়র্কে যে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন তা কেবল একজন উগ্র নাস্তিকের পক্ষেই সম্ভব। আমরা অবিলম্বে তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কার এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তারপূর্বক সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানের দাবি জানাচ্ছি।’

মন্ত্রীকে বহিষ্কারসহ শাস্তি প্রদান না করা হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে নেতারা বলেন, ‘যদি সরকার তার বিরুদ্ধে মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয় তবে দেশের লক্ষ-কোটি নবীপ্রেমিক জনতা আবারও ২০১৩ সালের মতো সারাদেশে নাস্তিক-বিরোধী আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।’

উল্লেখ্য, রোববার বিকেলে নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসের একটি হোটেলে নিউ ইয়র্কের টাঙ্গাইলবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি জামায়াতে ইসলামীর বিরোধী, তার চেয়েও হজ ও তাবলীগ জামাতের বেশি বিরোধী।’

হজ প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি কিন্তু হজ আর তাবলীগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী। এ হজে যে কত ম্যানপাওয়ার নষ্ট হয়। হজের জন্য ২০ লাখ লোক আজ সৌদি আরবে গিয়েছে। এদের কোন কাম নাই। এদের কোন প্রডাকশন নাই। শুধু রিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা দিয়ে আসছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘এভারেজে যদি বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ লোক হজে যায় প্রত্যেকের ৫ হাজার টাকা করে ৫০০ কোটি টাকা খরচ হয়। আব্দুল্লাহর পুত্র মোহাম্মদ চিন্তা করল এ জাজিরাতুল আরবের লোকেরা কিভাবে চলবে। তারাতো ছিল ডাকাত। তখন একটা ব্যবস্থা করলো যে আমার অনুসারীরা প্রতিবছর একবার একসঙ্গে মিলিত হবে। এর মধ্য দিয়ে একটা আয়-ইনকামের ব্যবস্থা হবে।’

তাবলীগ জামাতের সমালোচনা করে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘তাবলীগ জামাত প্রতিবছর ২০ লাখ লোকের জমায়েত করে। নিজেদেরতো কোন কাজ নেই। সারাদেশের গাড়িঘোড়া তারা বন্ধ করে দেয়।’
    Blogger Comment
    Facebook Comment