সর্বশেষ খবর:

ঢাবিতে মহাসংকটে ইংরেজি বিভাগ, ভর্তির যোগ্য ৩ শিক্ষার্থী!


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৪-১৫ সেশনে শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়ে মহাসঙ্কটে পড়েছে ইংরেজি বিভাগ। এবছর ‘খ’ ইউনিটে ফল বিপর্যয় হয়েছে। পরীক্ষায় মাত্র ১০ ভাগ শিক্ষার্থী পাশ করেছেন। এর মধ্যে ওই ইউনিট থেকে মাত্র ৩ জন শিক্ষার্থী ইংরেজী বিভাগে ভর্তি হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন! এনিয়ে বিপাকে পড়েছে ঢাবির ইংরেজী বিভাগ।

এবিভাগে প্রতিবছর ১৩০ থেকে ১৪০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয়। এর মধ্যে ‘খ’ ইউনিট থেকেই বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়ে থাকে। এছড়া ‘ঘ’ ইউনিট থেকে যোগ্যতার ভিত্তিতে কিছু শিক্ষার্থী ইংরেজী বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান।

এ অবস্থায় ভর্তি পরীক্ষার নিয়ম রক্ষা করলে বিভাগের প্রায় সব আসনই খালি রাখতে হবে। অন্যথায় বিধি ভঙ্গ করে ইংরেজি বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে হবে। শ্যাম রাখি না কূল রাখি অবস্থা ইংরেজী বিভাগের। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পরামর্শ সভা করা হয়েছে। কিন্তু কোন আউটপুট আসেনি।

জানা গেছে, চলতি বছর ‘খ’ ইউনিটে ৪০ হাজার ৫শ’ ৬৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এদের মধ্যে পাশ করেছেন ৩ হাজার ৮শ’ ৭৪জন। আর ফেল করেছেন ৩৫ হাজার ২শ’ ৮০জন। এছাড়া পরীক্ষায় অনুপস্থিতির সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪শ’ ৩জন। উত্তরপত্র বাতিলের সংখ্যা ১ হাজার ৪১১জন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি বছর ইংরেজি বিভাগে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছেন মাত্র ৩ জন।

‘খ’ ইউনিটে মেধা তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র ৩ শিক্ষার্থী ইলেক্টিভ ইংলিশ উত্তর করে ভর্তি হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে । এ অবস্থায় ইংরেজি বিভাগে কিভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হবে এনিয়ে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষকরা।

জানা গেছে, চলতি শিক্ষাবর্ষে প্রতিটি ইউনিটে আসন বাড়লেও কমেছে কলা, সামাজিক বিজ্ঞান ও আইন অনুষদভুক্ত ‘খ’ ইউনিটের আসন। ইউনিটটিতে গত বছর আসন সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৩শ’ ১০টি। এবছর ৮৯টি আসন হ্রাস পেয়ে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২শ’ ২১টিতে।

গত বছর ‘ঘ’ ইউনিট থেকে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিল ১ হাজার ৩শ’ ৩৬জন। এবছর ইউনিটটিতে ৮০টি নতুন আসন বেড়ে মোট ১ হাজার ৪শ’ ১৬ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে।

এবছর ‘ঘ’ ইউনিটে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ভর্তির সুযোগ পাবে ১ হাজার ২৪ জন, ব্যবসায় শিক্ষা থেকে সুযোগ পাবে ৩শ’ ৪৪ জন, মানবিক বিভাগের মাত্র ৪৮ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাবে।

এদের মধ্যে থেকে যারা ইংরেজি বিভাগে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করবে তারা ভর্তি হতে পারবেন। তবে ‘ঘ’ ইউনিট থেকে ইংরেজি বিভাগে ভর্তির সুযোগ কম রয়েছে। ইংরেজি বিভাগে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয় ‘খ’ ইউনিট থেকে।

তবে এবার ‘খ’ ইউনিটে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণে ইংরেজি বিভাগের প্রায় সব আসনই খালি পড়ে থাকবে। বিষয়টি নিয়ে চরম টেনশনে পড়েছেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষকরা।

জানা গেছে, ঢাবিতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় বিভাগ ‘ইংরেজি’। তবে যোগ্যতা অর্জন করতে না পারার কারণে ওই বিভাগের অধিকাংশ আসন খালি থাকার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

ঢাবিতে এ অবস্থার পেছনে কারণ হচ্ছে এবারই প্রথম ঢাবিতে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের ‘সাধারণ জ্ঞানের পরিবর্তে ‘ইলেক্টিভ ইংরেজি’ উত্তর করতে হয়েছে। যা ‘সাধারণ জ্ঞান’ ও ‘জেনারেল ইংরেজির চেয়ে কয়েকগুন কঠিন।

ফলে ভর্তি পরীক্ষায় মাত্র ১৯ জন শিক্ষার্থী ‘ইলেক্টিভ ইংরেজিতে’ উত্তর করেছেন। তাদের মধ্যে পাশ করেছেন মাত্র ৩ জন।

যে ৩ জন ইলেক্টিভ ইংরেজিতে পাশ করেছেন, তারা ইচ্ছে করলে শর্ত পূরণ করে ‘ইংরেজি বিভাগ’ ব্যাতীত অন্য যেকোন বিভাগেও ভর্তি হতে পারবেন। কিন্তু যারা ইলেকটিভ ইংরেজিতে উত্তর দেননি তারা ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হতে পারবেন না। এ অবস্থায় এ নিয়ম শুরুতেই হোচট খেল।

এদিকে শিক্ষার্থী সংকটের বিষয়টি নিয়ে ‘ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উদ্বেগ লক্ষ্য করা গেছে। বুধবার বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিয়ে এব্যাপারে একটি পরামর্শ সভা করা হয়েছে। তবে সেখানে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয়নি।

আগামী শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা। ওই ইউনিট থেকে ইংরেজিতে ভর্তি হতে হলে শিক্ষার্থীদের সাধারণ জ্ঞানের ‘বাংলাদেশ বিষয়াবলীর’ পরিবর্তে ‘এডভান্স ইংরেজি’ উত্তর করতে হবে। এবারই প্রথম এ নিয়ম করা হয়েছে। জানা গেছে, ‘ইলেক্টিভ ইংরেজির’ চেয়ে ‘এডভান্স ইংরেজি’ আরও বেশি কঠিন। এখানেও দেখার বিষয় কতজন শিক্ষার্থী ‘এডভান্স ইংরেজি’ উত্তর করে কৃতকার্য হয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন।

বিষয়টি নিয়ে ঢাবির বিভিন্ন ফেইসবুক গ্রুপে চলছে আলচনা-সমালোচনা।

এব্যাপারে ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান তাহমিনা আহমেদ বলেন, ‘বিষয়টি এখনও আমার জানা নেই। তাই এ বিষয় নিয়ে কোন মন্তব্য করতে পারবনা।

তিনি বলেন, কলা অনুষদের ডিন সদরুল আমিন স্যারের সাথে কথা বলে পরে সব কিছু জানানো হবে’।

কলা অনুষদের ডিন সদরুল আমিন বলেন, ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষার পর বিষয়টি নিয়ে বলা যাবে। তখন বুঝা যাবে শিক্ষার্থী সংকট হয় কিনা’।
    Blogger Comment
    Facebook Comment