সর্বশেষ খবর:

জাবিতে জালিয়াতির অভিযোগে আটক ৪, মূলহোতা শনাক্ত


জাবি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে তিন পরীক্ষার্থীসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। শনাক্ত করা গেছে জালিয়াতির মূল হোতাকেও।

বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ‘ডি’ ইউনিটের জীববিজ্ঞান অনুষদের দ্বিতীয় শিফটের পরীক্ষার সময় গনিত ও পরিসংখ্যান ভবনের ১২২ নম্বর কক্ষ থেকে হুমাইয়া আতিয়া আঁখি (রোল-৪০৭৮০০) নামে এক পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়।

আঁখি মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার প্রশ্নপত্রের কোড বাইরে পাঠিয়েছিলেন। এ সময় ওই কক্ষের পরিদর্শক পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এলমা জান্নাতুল ফেরদৌস তাকে ধরে ফেলেন।

জালিয়াতি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ার পর আঁখিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসা করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মো. মামুনুর রশিদ নামের এক যুবককে আটক করা হয়। আটক মামুন নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে লেদার টেকনোলজির সাবেক শিক্ষার্থী এবং আঁখির নিকট আত্মীয় বলে পরিচয় দেন।

মামুনুর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আাঁখিকে ভর্তি করাতে আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু হাফিজুর রহমানের মাধ্যমে ভর্তি জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে যুক্ত হই। হাফিজুর আমাকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ বিভাগের ছাত্র সোহাগ, প্রাণীবিদ্যা বিভাগের তুষার ও পরিসংখ্যান বিভাগের আপনসহ জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেয়। এরপর তাদের সঙ্গে আঁখিকে ভর্তি করানোর শর্তে সাড়ে চার লাখ টাকার চুক্তি হয়।’

মামুন আরও জানান, জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে চুক্তি হয় যে, ভর্তি পরীক্ষা শুরুর ২ ঘণ্টা আগে তারা পরীক্ষার্থীকে প্রশ্নপত্র মুখস্ত করাবে। আগে মূল সনদপত্র জমা দিতে হবে। মেধাতালিকায় নাম আসলে চার লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা পরদিন জমা দিতে হবে।

এ বিষয়ে আটক পরীক্ষার্থী জানান, ‘পরীক্ষা শুরুর আগে আপন ও তুষার আমাকে একটি মোবাইল ফোন দেয় এবং প্রশ্নপত্রের কোড এসএমএস করতে বলে। আমি সেট কোড এসএমএস করি। কিন্তু উত্তর আসার আগেই আমি কর্তব্যরত শিক্ষকের হাতে ধরা পরে যাই।’

এদিকে আজ ষষ্ঠ শিফটের পরীক্ষা চলাকালে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ভবনের ২৭ নম্বর কক্ষ থেকে রিয়াজ এবং সাহেদুর নামে দুই পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়। তাদের দুজনের প্রশ্নপত্রের কোড আলাদা থাকা সত্ত্বেও দুজনই পরীক্ষার উত্তরপত্রে একই কোড পূরণ করলে পরিদর্শকের সন্দেহ হয়। পরে তাদের আটক করা হয়।

এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. তপন কুমার সাহা বলেন, ‘আটকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আশুলিয়া থানা পুলিশে সোপর্দ করা হবে। এছাড়া এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
    Blogger Comment
    Facebook Comment