সর্বশেষ খবর:

চরম বিপাকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের শিক্ষার্থীরা তাদের সনদ এবং গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে। ওদিকে এই সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সতর্কতা জারি করেই তাদের দায়িত্ব শেষ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন।
এক মাস আগে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবি কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট ব্যবসাসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নানা অবৈধ কাজ কারবার নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে তোপের মুখে পড়ে। শিক্ষামন্ত্রী এবং মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান টিআইবি-র প্রতিবেদন চ্যালেঞ্জ করে প্রতিবেদনটি প্রমাণ করতে অথবা ক্ষমা চাইতে বলেন। কিন্তু এবার মঞ্জুরি কমিশনই দেশের ১২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যাপারে সতর্কতা জারি করেছে। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ওই ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রকাশ করে ভর্তির ক্ষেত্রে ছাত্র এবং অভিভাবকদের সতর্ক থেকে তথ্য যাচাই-বাছাই করে তারপর ভর্তির সিদ্ধান্ত নিতে বলেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো : দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইম ইউনিভার্সিটি, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ইবাইস ইউনিভার্সিটি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দি পিপলস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়-চট্টগ্রাম, শান্তমারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি ও কুইন্স ইউনিভার্সিটি।
এ সব বিশ্ববিদ্যালয়ে মালিকনার দ্বন্দ্বে একই নামে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করছে। আবার কোনোটির রয়েছে একাধিক এমনকি ৫০টির মতো অবৈধ ক্যাম্পাস। এ ছাড়া দুটি বিশ্ববিদ্যালয় আছে, যাদের কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়ার পরও আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে চালান হচ্ছে।
মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী বলেন, আদালতের নির্দেশে যেসব বিশ্ববিদ্যালয় চলছে তাদের সনদের ব্যাপারে আদালতই সিদ্ধান্ত নেবে। মালিকানার দ্বন্দ্বে যেসব বিশ্ববিদ্যালয় আদালতে মামলা করেছে, তাদের ব্যাপারেও আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর অবৈধ ক্যাম্পাসের পড়লে বৈধ সনদ পাওয়ার কথা নয়। তিনি বলেন, তাঁরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল গঠনের সুপারিশ করেছেন।
অন্যদিকে যেসব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন শিক্ষা দেয়, তাদের মধ্যে সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আইন পেশার সদন পাবে কিনা – তা নিয়ে জটিলতা দেখ দিয়েছে। বার কাউন্সিল তাদের আইন পেশার সনদ দেবে কিনা- তা নিয়ে শুনানি হবে ১৫ সেপ্টেম্বর।
সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় হলো : দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়, অতীশ দীপঙ্কর ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, প্রাইম ইউনিভার্সিটি, ইবাইস বিশ্ববিদ্যালয়, নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়, আমেরিকা বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়। এই সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীদের এ বছর আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভূক্তির পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন ফরম দেয়নি বার কাউন্সিল।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে এখন ৭২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।


    Blogger Comment
    Facebook Comment