সর্বশেষ খবর:

বেসরকারী-সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈষম্য: জিপিএ-৫ চালুর সুপারিশ (বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশি নম্বর দেয়া হয় এমন অভিযোগ ইউজিসির।)

সরকারী ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা ব্যবস্থায় হ-য-ব-র-ল অবস্থা বিরাজ করছে। যে যার মতো করে নম্বর দিচ্ছে। বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক রকম নম্বর আবার সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে আরেক রকম নম্বর দেয়া হচ্ছে। আবার ঢাকা বিশ্বব্যিালয় কিংবা অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের নম্বর বন্টনের বা দেয়ার প্রক্রিয়া এক নয়। এক এক বিশ্ববিদ্যালয়ে এক এক রকম পদ্ধতি বিরাজ করেছে।

একাডেমিক সেশন, প্রশ্ন প্রণয়ন, গ্রেডিং পদ্ধতি, নম্বর প্রদান, খাতা মূল্যায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এরফলে অনেক ক্ষেত্রে কম মেধাবীরা বেশি নম্বর ও সিজিপিএ পাচ্ছেন। আবার কোথাও প্রকৃত মেধাবীরা কম গ্রেডিং পেয়ে চাকরির বাজারে পিছিয়ে থাকেন। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং ন্যায় বিচার নিশ্চিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ‘সমন্বিত গ্রেডিং পদ্ধতি’, একক পরীক্ষক ব্যবস্থা ও তাদের মনিটরিংয়ে সুপারভিশন কমিটি গঠনসহ বিভিন্ন সুপারিশ করেছে।

এছাড়া এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে বিদ্যমান গ্রেডিং পদ্ধতিতে ১০টি ধাপের জায়গায় একটি বাড়িয়ে ১১টির প্রস্তাব করা হয়। বর্তমানে ৮০ ওপরে পেলে তাকে সর্বোচ্চ সিজিপিএ ৪ ধরা হয়। এর পরিবর্তে একটি বাড়িয়ে ৯০ নম্বর প্রাপ্তদের সিজিপিএ-৫ দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

রোববার ইউজিসিতে অনুষ্ঠিত ‘বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পরীক্ষা পদ্ধতি’ শীর্ষক দিনব্যাপী এক কর্মশালায় বক্তারা এ মতামত দিয়েছেন। এতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও প্রোভিসিরা যোগদান করেন।

এতে বলা হয়, ‘দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের কম নম্বর দেয়া হয়। দুই পরীক্ষক ব্যবস্থার কারণে সেখানে ফলপ্রকাশে বিলম্ব ঘটে। বিপরীত দিকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বেশি নম্বর প্রদান করা হয়। সেখানে একক পরীক্ষক ব্যবস্থা থাকায় প্রদত্ত নম্বরের ন্যায্যতা নির্ণয়েরও ব্যবস্থা নেই। বরং উদারভাবে নম্বর না দেয়ায় কোথাও কোথাও শিক্ষককে চাকরি ছাড়তে হয়েছে।’

ইউজিসি সূত্র জানিয়েছে, এমন নানাবিধ অভিযোগ পুরনো। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ইউজিসির অধীন বাস্তবায়নাধীন ‘উচ্চশিক্ষা মানোন্নয়ন প্রকল্প’ (হেকেপ) সম্প্রতি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করে। ওই গবেষণারই প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন- ইউজিসির স্ট্যাটেজি পলিসি ইউনিটের (এসপিইউ) প্রধান গবেষণা কর্মকর্তা আফতাবুন নাহার মাকসুদা।

এসময় মোট ১১টি সুপারিশ করা হয়। এগুলো হচ্ছে- সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিস্টার পদ্ধতি প্রবর্তন, এক্সটারনাল (বাইরের) পরীক্ষা একটির বেশি প্রশ্নসেট না করা, ক্রেডিট ট্রান্সফারের ব্যবস্থা, বিভিন্ন পরীক্ষার (যেমন মিড-টাইম, টেস্ট এবং ফাইনাল পরীক্ষা) নম্বর বন্টনে সমন্বয়, সব বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা, একাডেমিক ক্যালেন্ডার চালু, একক পরীক্ষা পদ্ধতি তথা সেমিস্টার পদ্ধতি চালু করে ফল প্রকাশের সময় কমিয়ে আনা, খাতা মূল্যায়নের একটি সমন্বিত নীতিমালা, শিক্ষা ছুটির একটি নীতিমালা, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন এবং মডারেশন, পরীক্ষকদের সম্মানী বৃদ্ধি, ছাত্রদের দিয়ে শিক্ষকদের মূল্যায়ন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউজিসি নির্ধারিত গ্রেডিং সিস্টেম মানা ইত্যাদি।
    Blogger Comment
    Facebook Comment