জামাত বলতে এদেশের লোকজন কেবল জামাত ইসলামী বাংলাদেশ নামক রাজনৈতিক দলটিকে বুঝে। বিভিন্ন সংস্থা নানা রকম সার্ভে করে বের করেছে এদেশের শত করা ৮ ভাগ লোক জামাত ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত । এটিকে যতি সত্যি এবং নির্ভূল হিসেবে ধরে নেই তবে জামাত ইসলামের বিরোধী দুটি শক্তির কর্মী-সমর্থকগণের সংখ্যা কিন্তু আরো বেশী। প্রথমে বলে নেই আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের কথা। এই সংগঠনের ভক্ত, কর্মী এবং সমর্থকের সংখ্যা কমকরে হলেও দেশের মোট জনসংখ্যার দশভাগেরও বেশী। অন্যদিকে তাবলীগ জামাতের ভক্তের সংখ্যাও অনুরূপ। তাহলে দেখা যাচ্ছে দেশের মোট জনসংখ্যার ৩০ ভাগ লোক তিনটি প্রধান মতাদর্শের অনুসারী হয়ে ভোটের রাজনীতিতে বিরাট এবং ব্যাপক ভূমিকা রেখে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের ক্ষমতার রাজনীতিতে তিনটি প্রধান দল যথা- আওয়ামীলীগ, বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির প্রথম সারির নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ আলাপে বুঝেছি তারা বাংলাদেশের ধর্ম ভিত্তিক রাজনৈতিক দলসমুহের ভোটের সমীকরনের হিসেব পত্র যেমন করেন না-তেমনি দেশের ধর্মীয় গোষ্ঠী সমূহের বিবাদ বিসম্বাদ কিংবা ঐক্য সম্পর্কেও বলতে গেলে বেখবর। আর এ কারনেই সৃষ্টি হচ্ছে নানা রকম সমস্যা ভূল বুঝাবুঝি, অনৈক্য সন্দেহ এবং অবিশ্বাস। তারা দাড়ী টুপি দেখলেই মনে করে- লোকটি হয়তো জামত ইসলামের কর্মী। আবার অন্য ইসলাম পন্থীদের সঙ্গে জামাত ইসলামের মৌলিক মত পার্থক্যের সুক্ষ কারণগুলো না জানা থাকার কারণে তারা পাইকারীভাবে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিরুদ্ধে কথা বলে নিজেদের অজান্তে সবাইকে একই কাতারের দিকে ঠেলে দেয়।
আমাদের দেশের তাবলীগ জামাত সম্পর্কে লোকজন খুব কমই জানে। এমনকি তাবলীগ জামাতের একনিষ্ঠ কর্মীদের ৯৯ ভাগ লোক জানেনা কেনো তারা তাবলীগ করছে কিংবা কেনো অন্যান্য ধর্মগোষ্ঠী তাদেরকে অপছন্দ করছে। টঙ্গীর তুরাগ তীরে তাবলীগ জামাতের বিশাল সমাবেশকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে এক ধরনের আবেগ ও শ্রদ্ধা কাজ করে। সারা বছর নামাজ কালাম পড়েন না এমন লোকও আখেরী মোনাজাতে শামিল হবার জন্য তুরাগ পাড়ে ছুটে যায়। শুধু তাই নয়- জামাত ইসলাম কিংবা আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের সাধারণ কর্মীরা অনেকটা না বুঝেই আখেরী মোনাজাত কিংবা তাবলীগের কোন জামাতে অংশ গ্রহণ করে থাকে পরকালে বেহেশত পাবার আশায়। তাবলীগের মুরুব্বীরা বলেন-কেউ যদি ৩ চিল্লায় অংশ গ্রহণ করে সেক্ষেত্রে তার জান্নাত লাভ প্রায় নিশ্চিত। চিল্লা বলতে বোঝায়- এক নাগাড়ে ৪০ দিন দলবদ্ধ হয়ে দেশ বিদেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ানো এবং মসজিদে মসজিদে রাত্রি যাপনের মাধ্যমে নিজেকে ইবাদত বন্দেগীতে ব্যস্ত রাখা এবং সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীকে দ্বীনি দাওয়াতের মাধ্যমে মসজিদে এনে কোরআন- হাদিস এবং ইবাদত-বন্দেগীর কথাবার্তা শুনিয়ে তাদেরকে দ্বীনি কাজে আকৃষ্ট করে তোলা। তাবলীগের মুরুব্বীরা টঙ্গীর মহা সমাবেশকে মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় জমায়েত বলে আখ্যা দিয়ে থাকেন। তাদের মতে পবিত্র হজ্জের সময় আরাফাত ময়দানে সর্বাধিক সংখ্যক মুসলমান হাজির হয়। এর পরই টঙ্গীর তুরাগ তীরের অবস্থান। তুরাগ পাড়ের সমবেত মুসুল্লীদের বেশীর ভাগই মনে করে এটি দ্বিতীয় হজ্জের মতো অতীব গুরুত্বপূর্ণ এবং পুত পবিত্র বিষয়। তাদের মতে যে সকল মানুষ আর্থিক কারণে হজ্জে যেতে পারে না তারা তুরাগ পাড়ে এলে আল্লাহ হয়তো তাদেরকে হজ্জের সমান সওয়াব দিয়ে ও দিতে পারেন।
তাবলীগের মুরুব্বীরা আরো কিছু বিষয়ে তাদের অনুসারীদেরকে সবক দিয়ে থাকে। তারা বিশেষ নিয়েমে তছবীহ, তাহলীল, জিকির আজকার এবং আচার আচরণের তালিম দিয়ে থাকে । দাড়ী রাখা, পাগড়ী পরা, লম্বা জুব্বা আচকান পরিধান করা এবং লোকজনকে দেখামাত্র সালাম দিয়ে দ্বীনের দাওয়াত পেশ করার মাধ্যমে তাবলীগের কর্মীরা তাদের কর্মসূচী অব্যাহত রাখে। ঢাকার কাকরাইল মসজিদ তাদের প্রধান কেন্দ্র। সারা বছরই তাবলীগি কর্মকান্ড চলতে থাকে। দলে দলে লোক প্রথমে কাকরাইল মসজিদে আসে এবং পরে মুরুব্বীদের গাইড লাইন অনুযায়ী দেশ বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে।
আপাত দৃষ্টিতে তাবলীগ জামাতের কর্মকান্ড দেখলে যে কেউ মনে করতে পারেন এটি একটি নির্লোভ সংস্থা। এখানকার লোকজনের দুনিয়ার স্বার্থ, রাজনীতি বা অর্থনীতি নিয়ে কোনই মাথা ব্যাথা নেই। এরা কেবল মাত্র তাদের মালিক আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টির জন্যই পরিবার পরিজনের মায়া মহব্বত ত্যাগ করে দ্বীনের পথে বেরিয়ে পড়ে। তারা নিজেদের পকেটের অর্থ খরচ করে এবং কায়িক পরিশ্রম বা মেহনত করে পথে প্রান্তরে ঘুরে বেড়ায়। তারা নিজেরা ইবাদত বন্দেগী করে এবং অন্যকে ইবাদত বন্দেগীর পথে দাওয়াতের মাধ্যমে আহবান করে। সুতরাং-তারা হয়তো সঠিক পথেই রয়েছেন। অন্যদিকে দেশ বিদেশের ইসলামী পন্ডিত, ইতিহাসবেত্তা, মুফাস্সির কিংবা মহাদ্দিসগণ কিন্তু তাবলীগ জামাতকে একদম দেখতে পারে না। তাদের সার্বিক কর্মকান্ডকে বেদাত, শরীয়তের বরখেলাপ এবং মুসলিম উম্মাহর ঈমান এবং একিনের জন্য ভয়ঙ্কর এক ফেতনা বলে মনে করেন। এবিষয়ে বহুজনের বহু মত রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অপর দুই জামাত অর্থাৎ আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত এবং জামাত ইসলামী তাবলীগ জামাত সম্পর্কে কি বলে তা নিয়ে সংক্ষেপে কিছু বলে নেই।
আহলে সুন্নত এবং জামাতের অনুসারীরা তাবলীগ সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পোষন করে না। তারা মনে করে- ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ অর্থাৎ ঈমান, রোজা, নামাজ, হজ্জ যাকাত এর সঙ্গে কোন ইবাদতের তুলনা করা যাবে না। তাবলীগের লোকজন ইসলামের ৪ নম্বর স্তম্ভ হজ্জকে সরাসরি আঘাত করছে যা কিনা বিধর্মীরাও করছে না। এই প্রসঙ্গে তারা উমাইয়া খলিফা মারোয়ান ইবনে হাকামের একটি উদ্যোগের বিরুদ্ধে মুসলিম পন্ডিতদের বিদ্রোহের ঘটনাটিকে তাবলীগের বিরুদ্ধে দাঁড়া করান। মারোয়ান খলিফা হয়ে দামেস্কের সিংহাসনে বসেন ৬৮৪ খ্রীষ্টাব্দে । সম্পর্কে তিনি ছিলেন তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান (রাঃ) এর চাচাত ভাই এবং প্রধানমন্ত্রী।
মারোয়ানের জন্ম হয় আল্লাহর রাসুল (সঃ) ওফাতের ঠিক এক বছর পর। অসম্ভব মেধাবী, প্রচন্ড ধুরন্ধর এবং উপস্থিত বুদ্ধির অধিকারী মারোয়ান শুরু থেকেই আল্লাহর রাসুলের বংশধর বিশেষত বনু হাসেমীগণকে মেনে নিতে পারেননি। তিনি ছিলেন হযরত আলী (রাঃ) এর ঘোরতর শত্র“। হযরত আলী এবং মুয়াবিয়া যখন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন তখন তিনি মুয়াবিয়ার পক্ষ অবলম্বন করেন । খুলাফায়ে রাশেদীনের তৃতীয় খলিফা থেকে পরবর্তী উমাইয়া যুগের ৯০ বছরের শাসনামলের বহু ফেৎনা, ফ্যাসাদ, মারামারি, হানাহানি, যুদ্ধ বিগ্রহ এবং ইসলামের মধ্যে বহু বেদাত ঢুকে যাওয়ার জন্য লোকজন আজ অবধি তাকেই দায়ী করে। মুলতঃ তাকেই বলা হয় উমাইয়া শাসনের পিতৃপুরুষ। তার সন্তান আব্দুল মালেক, ওলিদ এবং সুলায়মান-৩জনই দামেস্কের সিংহাসনে বসেন এবং এই বংশের বুনিয়াদ প্রতিষ্ঠা করেন।
মারোয়ানের রাজধানী দামেস্ক মক্কা ও মদিনা থেকে বহুদুরে অবস্থিত। তৎকালীন সময়ে প্রায় একমাসের পথ । হজ্জের মওসুমে দামেস্ক থেকে মক্কাতে যাওয়া ছিলো সত্যিকার অর্থেই কষ্টসাধ্য এবং ব্যয়সাধ্য বিষয়। তার ওপর রাজনৈতিক অবস্থা ছিলো সম্পূর্ন বিপরীতে। মুসলিম বিশ্ব তখন দুই খন্ডে বিভক্ত। বর্তমান সৌদি আরব, ইরাক এবং মিশরের বৃহদাংশ ছিলো হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের এর অধীন। অন্যদিকে সিরিয়া, নাবলুস, জেরুজালেম, পশ্চিম তীর এবং মিশরের একাংশ ছিলো মারোয়ান এবং আমর ইবনুল আসের কর্তৃত্বাধীন । এক অঞ্চলের মুসলমানরা অন্য অঞ্চলে নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারতো না। কাজেই সিরিয়ার- বিশেষত দামেস্কের মারোয়ান পন্থী মুসলমানেরা রাজনৈতিক কারণে মক্কা -মদীনা সফর করতে সাহস হারিয়ে ফেলেছিলো। এই অবস্থায় মারোয়ান একদিন তার রাজদরবারে জরুরী পরামর্শ সভার আয়োজন করলেন। বললেন- সামনে হজ্জের মওসুম। আমরা যারা হজ্জে যেতে অপারগ- আসুন তারা সবাই মিলে হজ্জের দিন মসজিদে বসে আল্লাহ বিল্লাহ, তছবিহ-তাহলিল এবং নামাজ কালাম আদায় করতে থাকি।
মারোয়ানের প্রস্তাবে দামেস্কের আলেম সমাজ সম্মিলিত ভাবে রুখে দাঁড়ালেন । তারা যুক্তি দেখালেন- এটা এমন একটি পদ্ধতি যা আল্লাহর রাসুল (সঃ), সাহাবী এবং তাবেয়ীগণ কোনদিন করেননি এবং অনুমোদনও দেননি। ইসলামী শরিয়তের যাবতীয় বিধি-বিধান খোলাফায়ে রাশেদীনের জমানায়-ফয়সালা হয়ে গিয়েছে । বিশেষ করে ইবাদত ও বন্দেগীর বিষয়ে নতুন কিছু করার নেই এবং নতুন কিছু করাটাও ইসলামে অনুমোদিত নয়। কেবলমাত্র সামাজিক, রাজনৈতিক এবং পারিবারিক বিরোধ নিস্পত্তিতে ইজমা-কিয়াসের বিধান প্রযোজ্য। কাজেই খলিফা যা করতে চাচ্ছেন তাতে আগামী দিনে ইসলামের মৌলিক ভিত্তিগুলো প্রতিপালনে মানুষ বিকল্প উছিলা খুঁজতে থাকবে। তারা হজ্জে না গিয়ে বাড়ীতে বসে বা কোন মাহফিলে বসে হজ্জের বাধ্য বাধকতা থেকে রেহাই পেতে থাকবে । এর পর একে একে তারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, রোজা এবং যাকাতের বিকল্প খুঁজতে থাকবে। ফলে একদিন ইসলামও হয়তো অন্যান্য সনাতন ধর্মের ন্যায় সংক্রমিত হয়ে তার পবিত্রতা হারিয়ে ফেলবে।
আলেম সমাজের প্রবল বাধার কারনে মারোয়ান পিছু হটতে বাধ্য হলেন । সেই থেকে আজ অবধি কোন দেশে, সমাজে বা রাষ্ট্রে হজ্জের সঙ্গে তুলনীয় বা হজ্জের বিকল্প কোন ইবাদত বন্দেগীর নাম শোনা যায়নি । কিন্তু বাংলাদেশের তুরাগ পাড়ে গত ৪০/৪৫ বছর ধরে যা হচ্ছে তাতে তাবৎ দুনিয়ার সুন্নিয়তের আলেম সমাজ প্রমাদ গুনছেন এবং তাবলীগের বিরুদ্ধে তাদের মতামত তুলে ধরছেন। এরই ধারাবাহিকতায়- আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত এবং জামাত ইসলামী যুগপৎভাবে তাবলীগের বিরোধীতা করে আসছে। এখানে উল্লেখ্য যে- জামাত ইসলামী এবং আহলে সুন্নত কিন্তু পরস্পর বিরোধী সংগঠন। তারা কেউ কাউকে দেখতে পারে না । ধর্মীয়ভাবে একদল অন্যদলকে ছোট করার জন্য কাফের, মুরতাদ, বাতেল ফেরকার অনুসারী প্রভৃতি নামে ভূষিত করে। রাজ নৈতিকভাবেও তারা একে অপরের শত্র“। একদল কট্রর সরকার সমর্থক এবং অন্যদল সরকারের ঘোর বিরোধী। কিন্তু তাবলীগের বিরুদ্ধে দুই দলের মনোভাবেই কিন্তু প্রায় এক ।
এখন আমি সংক্ষেপে বলার চেষ্টা করবো এমন কিছু বিষয় সম্পর্কে যার জন্য তাবলীগ অনুসারীদেরকে তাদের প্রতিপক্ষের লোকজন গাফেল বলে অভিহিত করে থাকে। প্রথমেই তারা সমালোচনা করে বলে যে, তাবলীগীরা যা করছে তা নিদেন পক্ষে একটি নফল ইবাদত । অথচ নফল কাজটি করতে গিয়ে তারা সমাজ -সংসার এবং রাষ্ট্রের অনেক ফরজ কাজ থেকে নিজেদেরকে গাফেল করে ফেলে। শুধু কি তাই- কিছু ফরজ পালন না করার জন্য রীতিমতো গুনাহগার বা ক্ষেত্র বিশেষে কবিরা গুনাহর ভাগিদার হয়ে যায়। যেমন-পরিবার পরিজনের হক আদায় করা ফরজ। পরিবারের জন্য বাজার সদাই করে সেগুলো বহন করা জেহাদে যাবার সওয়াবের সমান। ঘরে যুবতী স্ত্রী, বিবাহ উপযুক্ত ছেলে মেয়ে কিংবা অসুস্থ পিতামাতাকে রেখে বিনা ওজরে বাইরে যাওয়া যাবে না। স্বামী বা পিতার অনুপস্থিতির সুযোগে স্ত্রী সন্তানেরা যেসব গুনাহ করে সেগুলোর দায় দায়িত্ব স্বামী বা পিতাকে নিতে হয়। অন্যদিকে স্বামী যদি স্ত্রীর দিকে মহব্বতের দৃষ্টিতে তাকায় তবে উভয়ের সগীরা গুনাহ সমূহ মাফ হয়ে যায়। পিতা মাতার দিকে মহব্বতের দৃষ্টি নিয়ে তাকালে সগিরা গুনাহ তো মাফ হবেই অধিকন্তু দশটি নেকী পাওয়া যাবে। আল্লাহর রহমত বরকত ও হেদায়েত প্রাপ্তির সবচেয়ে বড় যায়গা হলো পরিবার এবং সমাজ। সেগুলো ছেড়ে তাবলীগীরা যে পথে প্রান্তরে ঘুরে বেড়ায় এর সপক্ষে তারা কি কোরআন হাদিসের কোন দলিল দেখাতে পারবে ? অবশ্যই পারবে না। তারা একটি বহুল প্রচলিত হাদিসের কথা বলে থাকে- ”জ্ঞান অর্জনের জন্য সুদুর চীনে যাও ।” কিন্তু তারা একবারও ভেবে দেখেনি যে, সমাজ, সংশার এবং পরিবার পরিজন ছেড়ে দুরে না থাকার জন্য কত হাদিস রয়েছে। তাছাড়া নিজ দেশের জ্ঞান অর্জন না করে অন্যদেশে যাওয়া যে হারাম একথাটাও তারা গুরুত্ব দেয় না।
তাবলীগীরা মসজিদে খানা পিনা করে এবং সেখানেই রাত্রী যাপন করে যা নিয়ে তাবলীগ বিরোধীদের রয়েছে মহা আপত্তি। ইসলামের ১৪শ বছরের ইতিহাসে কাউকে কোনদিন মসজিদে রাত্রি যাপন এবং খানা পিনার অনুমোদন দেয়া হয়নি কেবল আসহাবে সুফফা ব্যতিরেকে। আল্লাহর রাসুল(সঃ) একমাত্র আসহাবে সুফফার সদস্যদেরকেই মসজিদে থাকার অনুমতি দিয়েছিলেন । তাবলীগ বিরোধীরা বলেন- তাদের মসজিদে রাত্রি যাপন এবং খানাপিনার কারণে মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট হয়। মসজিদ কেবলমাত্র ইবাদত বন্দেগীর জন্য। মানুষ যদি সেখানে খানা খায় তাহলে মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট হতে বাধ্য। আর ঘুমানোতো একেবারেই না জায়েজ। কারণ ঘুমন্ত মানুষের বায়ু ত্যাগ বা স্বপ্ন দোষের মতো ঘটনায় ব্যক্তির কোন নিয়ন্ত্রন থাকে না। এই অবস্থায় মানুষের মন জাগতিক এবং দৈহিক অপবিত্রতার দায় থেকে মসজিদে অবস্থানকারীকে কেউ রক্ষা করতে পারবে না। সে যদি না জেনে ওসব করে তবে গাফেল হবে । আর যদি জেনে শুনে করে তবে গুনাহগার হয়ে পড়বে।
তাবলীগীদের বেশীরভাগ অনুসারীই হত দরিদ্র, অল্প শিক্ষিত বা অশিক্ষিত এবং ক্ষেত্র বিশেষে রুগ্ন এবং ভগ্ন স্বাস্থ্যের অধিকারী। তারা পরিবার পরিজন, পাড়া প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন এমনকি নিজের হক নষ্ট করে আল্লাহকে পাবার মানষে বাক্স, পেটরা, লাকড়ী, মুড়ি-চিড়া নিয়ে সন্নাসীর মতো ঘর থেকে বের হয়ে যায়। ইসলামে সন্নাসধর্ম শুধু নাজায়েজ নয়- রীতিমতো নিষিদ্ধ। তাদের অবর্তমানে কিভাবে পরিবার চলবে- স্ত্রী কি করবে ? সন্তানরা বাঁচলো না মরলো এসব খোঁজ খবর নেয়ার কোন লোক থাকে না । তারা চিল্লা দিয়ে বেহেশত পাবার আশায় নিজেদের প্রতি মহা জুলুম শুরু করে যা কোন মতেই ইসলাম অনুমোদন করে না। তাবলীগ বিরোধীরা তাবলীগ জামাতকে প্রধানত দুইটি কারণে দায়ী করে থাকে। প্রথমতঃ তাদের কারণে ইসলামের ৪র্থ স্তম্ভ্যটি নিয়ে আগামী দিনে একটি নতুন ফেতনা সৃষ্টি হবে । দ্বিতীয়তঃ শরীয়তের প্রতিষ্ঠিত বিধি বিধান পাশ কাটিয়ে নতুন কিছু করা হলে তা সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্যই ভয়াবহ বিপদ ও বিপত্তি ডেকে নিয়ে আসবে। আর এ কারণেই তাবলীগের অনুসারীদেরকে তাদের বিরোধীরা একদম সৈহ্য করতে পারে না।
[ আগামী লিখায় আহলে সুন্নত ও জামাত ইসলামী সম্পর্কে বিস্তারিত থাকবে]
লেখা ঃ গোলাম মাওলা রনি
::::মতামত বিভাগে প্রকাশিত লেখার সম্পূর্ণ দায়ভার লেখকের :::::

Blogger Comment
Facebook Comment