সর্বশেষ খবর:

এত্ত ফাঁক!

ভারতীয় ক্রিকেটারদের সততা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে এবার, প্রশ্ন উঠতে পারে আইসিসির মনোনীত আম্পায়ারদের স্বচ্ছতা নিয়েও। সেই সঙ্গে ভারতকে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে টিকিয়ে রাখতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) হীন মানসিকতা নিয়েও সমালোচনার ঝড় উঠতেই পারে। বৃহস্পতিবার বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের বিপক্ষে আর ভারতের বিপক্ষে অন-ফিল্ড আম্পায়ার ও থার্ড আম্পায়াররা যে নগ্ন পক্ষপাত দুষ্টতা দেখিয়েছেন এরপর এমন প্রশ্ন উঠলে তাতে বিন্দুমাত্র বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই।





মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের এই ম্যাচটিতে আম্পায়ারদের একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের শিকার হতে হয়েছে বাংলাদেশকে। দিনের শুরুতে টস ভাগ্য বাংলাদেশের বিপরীতে গেছে। এরপর ভারতের ব্যাটিং ইনিংস চলাকালে দুবার বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দিয়ে বাংলাদেশের উজ্জীবিত ক্রিকেটে জল ঢেলেছেন আম্পায়াররা। পরবর্তীতে বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংসে পর পর দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি করা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের বিপক্ষেও দেওয়া হয়েছে এক বিতর্কিত আউটের সিদ্ধান্ত।

শুরুটা হয়েছিল সুরেশ রায়নার বিপক্ষে বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার এলবিডব্লিউ আউটের আবেদন দিয়ে। ৩৪তম ওভারে ওই আবেদনটি করেছিলেন মাশরাফি। তখন ভারতের রানও তেমন আহামরি কিছু নয়, আবার রায়নাও তখন রান পেতে সংগ্রাম করছিলেন। কিন্তু নিয়মের ফাঁদে ফেলে সিদ্ধান্তটি বাতিল করে দিয়েছেন ম্যাচ রেফারি স্টিভ ডেভিস। মাশরাফির বলটা লেগ স্ট্যাম্পের সামান্য বাইরে পড়েছিল। আর তাতেই নিয়ম দেখিয়ে উইকেট বঞ্চিত বাংলাদেশ। নিয়মটা হলো, লেগ স্ট্যাম্পের বাইরে বল পড়লে কোনো এলবিডব্লিউ নয়। কিন্তু মাশরাফির এই আবেদন নিয়ে ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমানে ধারাভাষ্যকার সঞ্জয় মাঞ্জেরেকার বলেছেন, ‘নিয়মের দিক থেকে সিদ্ধান্তটা ঠিক, নীতির দিক থেকে ঠিক নয়।’ আর ক্রিকইনফো বলেছে, ‘এটা অনেক বেশি ক্লোজড কল ছিল। ৫১ শতাংশই আউট।’




নিয়মের কথা বলে আরেকবার আম্পায়ারের বাজে সিদ্ধান্তের শিকার হয়েছে বাংলাদেশ। ৪০তম ওভারে রুবেলের একটি বলে ক্যাচ তুলেছিলেন ম্যাচে সেঞ্চুরি পাওয়া শেখর ধাওয়ান। তখন তার ব্যক্তিগত রান ৯০। বাংলাদেশ ক্যাচটি ধরলেও তা ‘নো বল’ ডেকে বাতিল করে দিয়েছেন অন ফিল্ড ২ আম্পায়ার ইংল্যান্ডের ইয়ান গোল্ড ও পাকিস্তানের আলিম দার। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, বলটি কোমড়ের উপরের উচ্চতায় ছিল। কিন্তু টেলিভিশন রিপ্লেতে আম্পায়ারদের দাবির যথার্থতা মিলে নি। তবে কর্তার ইচ্ছাই কর্ম। বাংলাদেশকেও তাই এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হয়েছে।

আর আম্পায়ার তথা ভাগ্যের আশীর্বাদ নিয়ে রায়না ৬৫ রানের এবং ধাওয়ান ১৩৭ রানের ইনিংস খেলে ভারতের সংগ্রহকে টেনে নিয়েছেন ৩০২ রান পর্যন্ত।

এবার আসা যাক শুরুতে কেন ভারতীয় ক্রিকেটারদের সততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংস চলাকালে ...ওভারে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাট ছুঁয়ে বাতাসে ভাসা বলটি বাউন্ডারি সীমানায় দ্বিতীয় চেষ্টায় তালুবন্দী করেছেন ধাওয়ান। কিন্তু বলটি তিনি যখন তালুবন্দী করেছেন তখন তার পা বাউন্ডারি লাইন স্পর্শ করেছিল। কিন্তু থার্ড আম্পায়ার তা উপেক্ষা করেই মাহমুদউল্লাহকে আউট ঘোষণা করেছেন।

যদিও টিভি রিপ্লেতে এবং স্টিল ফটোগ্রাফিতে স্পষ্টই দেখা গেছে ধাওয়ানের পা লাইন স্পর্শ করেছে। যারা এই আউটের সিদ্ধান্তকে সাপোর্ট করেছেন তাদের দাবি বাউন্ডারি লাইন ও ধাওয়ানের পা’র মধ্যে ইঞ্চি খানেক ফাঁক ছিল। অথচ ছবি দেখলে ‘মাইক্রো ইঞ্চি’র পার্থক্যও খুঁজে পাওয়া যাবে না সেখানে!

আইসিসির মূল আয়ের ৮০ শতাংশ ভারতের অবদান। এ কথা ক্রিকেট বিশ্বে সর্বজন স্বীকৃত ‘ওপেন সিক্রেট’। যে কোনো আসরে ভারতের টিকে থাকা মানে আইসিসির লাভের অ্যাকাউন্ট ফুলে ফেঁপে ওঠা।

মাশরাফিদের উদ্দীপ্ত ক্রিকেটের জোয়ারে মহেন্দ্র সিং ধোনিদের অস্তিত্ব যেন বিলীন হয়ে না যায়, কে জানে হয়তো সে কারণেই আম্পায়ারদের নির্দেশনা দিয়েই মাঠে ঠেলেছে ক্রিকেটের বিশ্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। যাকে নিয়ে অনেকেই মজা করে বলে থাকেন-আইসিসি মানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল নয়, ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল!

সে যাই হোক, বৃহস্পতিবার ১৬ কোটি বাংলাদেশীর মন ভেঙ্গে দিয়েছে আম্পায়ারদের বিতর্কিত আচরণ। যার ছবি ফুটে উঠেছে ফেসবুক ও টুইটারসহি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে।
    Blogger Comment
    Facebook Comment