ঢাবির শহীদুল্লাহ হলের রহস্যঘেরা পুকুর ! ডুবে আরও এক শিক্ষার্থীর প্রাণ গেল
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের পুকুরে ডুবে আরও এক শিক্ষার্থীর প্রাণ গেল। মৃত শিক্ষার্থীর নাম রাহি। তিনি পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
জানা গেছে, আজ বুধবার পুকুরে গোসল করতে নেমে আর ফেরেননি তিনি। সাঁতার কেটে পুকুরে মাঝখানে যাওয়ার পরই রাহি তলিয়ে যায়। এরপর ভেসে উঠে তার মরদেহ।
এই পুকুরটিতে এরআগেও মানুষ মারা গেছে। গোসল করতে এসে অনন্ত ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি প্রাণ হারায়। এরমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীও রয়েছেন কয়েকজন।
তাই পুকুরটিকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশপাশের এলাকায় নানা গল্প প্রচলিত রয়েছে। কেউ বলে এই পুকুরে ভূত-প্রেত আছে। কেউবা বলে এখানে ডাইনি বুড়ি আর রাক্ষসেরা বসবাস করে।
২০০৯ সালে এই পুকুরে সাঁতার কাটার সময় দুপুর বেলায় পানির নিচে তলিয়ে যায় এক ভর্তি পরীক্ষার্থী। এর আগে বন্ধুর সঙ্গে গোসল করতে এসে মারা যান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। এভাবে সাঁতার কাটার সময় দিনে-দুপুরে ১০/১২টি তাজা প্রাণ কেড়ে নেয় এই পুকুর। যে কারণে পুকুরটিকে ঘিরে কল্পকাহিনী আরও বেশি পাকাপোক্ত হয় মানুষের মনে।
হলের কর্মচারীরা জানায়, সাঁতার কাটতে গিয়ে এক ছাত্রের মৃত্যুর পর এখানে গোসল করা ও সাঁতার কাটায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে নোটিস টাঙিয়ে দেওয়া হয়। যে কর্মচারী নোটিসটি টাঙায় সে একদিন স্বপ্ন দেখে তাকে এক লম্বা চুলওয়ালা ডাইনি বলছে- 'তুই আমার আহার কেড়ে নিয়েছিস, তোর খবর আছে'। এরপর ওই কর্মচারী চাকরি ছেড়ে লাপাত্তা হয়ে যায়।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কর্তৃপক্ষের অযত্ন-অবহেলায় পুকুরটির বেহালদশা বিরাজ করছে। পানিতে গাছের ডালপালা পড়ে আছে। তিনটি ঘাটের মধ্যে একটি ভেঙে গেছে এবং অন্য দুটি বিবর্ণ হয়ে গেছে। এ ছাড়া পুকুরের পানি অনেকটা ময়লা-আবর্জনা মিশে ঘোলাটে রং ধারণ করেছে। ঘাটের পাশে একটি সাইনবোর্ডে বড় বড় অক্ষরে বিজ্ঞপ্তি আকারে লেখা আছে- 'পুকুরে গোসল ও সাঁতার কাটা নিষেধ।'
হেমায়েত উদ্দিন নামের হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, অনেকেই এটি ভৌতিক পুকুর বললেও এরকম কিছু আছে বলে আমি মনে করি না। আমি এই পুকুরে গোসল করেছি। সাঁতার কেটেছি। গরমের দিনে অনেক কর্মচারী নিয়মিত গোসল করে এখানে। তবে পুকুরের পানি অপরিষ্কার হওয়ায় এখন মানুষ কম গোসল করে।
হলের আরেক শিক্ষার্থী আবু বকর বলেন, এই পুকুরের নিচে উদ্ভিদের পরিমাণ বেশি হওয়ায় পানিতে অক্সিজেন স্বল্পতা রয়েছে বলে শুনেছি। হয়তো সে কারণেই সাঁতার কাটতে গিয়ে অনেকে মারা গেছেন। এ ব্যাপারে হল প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।

Blogger Comment
Facebook Comment