সর্বশেষ খবর:

দ্বিতীয় স্ত্রীর জন্য আদরের ছলে প্রথম স্ত্রীকে হত্যা

দ্বিতীয় বিয়ে টিকিয়ে রাখতেই প্রথম স্ত্রী নাসিমাকে হত্যার পরিকল্পনা করে জুয়েল বিশ্বাস। এরপর হাসি-খেলার ছলে স্ত্রীর হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করে রাতের অন্ধকারে পাঁচ বছরের শিশু সন্তান দীপুকে নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী সুমির কাছে পালিয়ে যায় জুয়েল।

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে অজ্ঞাত নারীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তে নেমে ওই নারীর স্বামী জুয়েলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এরপর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জুয়েল এমন কথাই বলেছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ জোনের উপ-কমিশনার মফিজউদ্দিন আহমেদ। বুধবার দুপুরে ডিএমপির গণমাধ্যম কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

মফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘গত ৩০ জুন রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের পশ্চিম রসুলপুর কামাল সুপার মার্কেটের পেছনের একটি বাসা থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এক মাসেরও বেশি সময় আগের এই ঘটনার রহস্য উন্মোচন এবং হত্যাকারীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে সমর্থ হয়েছে পুলিশ।’

হাসি-খেলার ছলে স্ত্রী নাসিমাকে হত্যা করে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হাসির ছলে প্রথমে নাসিমার হাত-পা বেঁধে ফেলে জুয়েল। এরপর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া পালিয়ে যান। সেখানে দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছে ছেলেকে রেখে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি মেসে উঠেন।’

জবানবন্দিতে জুয়েল জানিয়েছেন, ২৮ জুন রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া ওঠেন। ওইদিন রাতেই স্ত্রী নাসিমাকে গলাটিপে হত্যা করেন। অথচ জুয়েল নাসিমাকে ৬ বছর আগে প্রেম করেই বিয়ে করেছিলেন।

২০০৮ সালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন নাসিমা। রঙ মিস্ত্রী জুয়েল তখন ওই এলাকারই একটি মেসে ভাড়া থাকতেন। ছদ্মনাম ‘ইমন’ ব্যবহার করে নাসিমার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করেন তিনি। এরপর ২০০৯ সালে জুয়েল তার ভুয়া নাম ঠিকানা দিয়েই নাসিমাকে বিয়ে করেন। ২০১০ সালে দিপু নামে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন নাসিমা।

উপ-কমিশনার মফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘জুয়েল ২০১২ সালে সুমি নামে আরো একজনকে বিয়ে করেন। নাসিমাকে হত্যার পর তিনি সুমির কাছেই পালিয়ে যান। দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকেই তিনি প্রথম স্ত্রী নাসিমাকে হত্যার পরিকল্পনা করছিলেন।’

এর আগেও নাসিমাকে একবার হত্যা করতে চেয়েছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জুয়েল পুলিশকে জানিয়েছেন। প্রথম স্ত্রীর সামাজিক পরিচয় নিয়ে জুয়েল হীনমন্মতায় ভুগতেন। এ কারণে প্রথম বিয়ের বিষয়টি তিনি চেপে রাখতে চাইলেও দ্বিতীয় স্ত্রী তা জেনে যান। এরপর তাদের মধ্যে যোগাযোগ হয় এবং সমস্যা তৈরি হতে থাকে।

নাসিমাকে হত্যার বিষয়ে এটিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও পুলিশ কর্মকর্তা মফিজ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

ঘটনাটি ক্লুলেস ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি একটি ক্লু-লেস হত্যাকাণ্ড ছিল। পুলিশ এক মাসের চেষ্টায় ঘটনার রহস্য উন্মোচিত করেছে।’
    Blogger Comment
    Facebook Comment