সর্বশেষ খবর:

না জানিয়ে কনডম ফুটো করায় প্রেমিকের জেল


প্রেমিকাকে না জানিয়ে কনডম ফুটো করায় জেল হয়েছে এক প্রেমিকের। প্রেমিকার সব ইচ্ছা পূরণ না করায় ক্যানাডার এক প্রেমিক লাল ঘরে যাওয়ার অপেক্ষায়৷অবশ্য প্রেমিক সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা ভাবছেন। প্রেমিকার অভিযোগ, প্রেমিক তাকে কৌশলে গর্ভবতী করেছেন!

ঘটনাটি ২০০৬ সালের। মেয়েবন্ধুর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কটা শীতল হয়ে আসছে দেখে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান জ্যারেট হাচিনসন৷ প্রেমিকা তাকে ছেড়ে যেতে পারে এ আশঙ্কায় একটি কৌশলের আশ্রয় নেন ৪৩ বছর বয়সী এই ক্যানাডিয়ান৷

প্রেমিকার সঙ্গেই থাকতেন তিনি৷ যৌন সংসর্গও হতো নিয়মিত। প্রেমিকার শর্ত মেনে তাকে কনডম ব্যবহার করতে হতো।

ঘটনার রাতেও কনডম ব্যবহার করেছিলেন৷ কিন্তু সম্ভোগ শুরুর আগে একটি পিনের খোঁচায় কনডমটি ফুটো করে দিয়েছিলেন তিনি। ফলে যা হওয়ার তা-ই হলো৷

প্রেমিকা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। তারপর হাচিনসন স্বীকার করলেন, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতেই এই কৌশল অবলম্বন করা হয়৷

নারীর সঙ্গে নানা কৌশল অনেক পুরুষই করে থাকেন৷সরল বিশ্বাসের খেসারত নানাভাবে দিতে হয় অনেক নারীকে৷ ঘরে, রাস্তায় নারী নির্যাতন, নারীর যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনা কমবেশি সব দেশেই ঘটে থাকে৷

কিন্তু এসবের বিচার হয় হাতেগোনা কয়েকটি দেশে৷ ক্যানাডা সেসব দেশের মধ্যে অন্যতম৷ তাই জ্যারেট হাচিনসন কায়দা করে তাকে অন্তঃসত্ত্বা করার পর ব্যাপারটি মেনে নেননি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রেমিকা৷

গর্ভপাত ঘটাতে গিয়ে জরায়ুতে সংক্রমণ হয়, রক্তস্রাব শুরু হয় অতিমাত্রায়। সাতদিন কষ্টভোগের পর স্থির করেন, কূটকৌশলের আশ্রয় নেয়ার উপযুক্ত শাস্তি দেবেন প্রেমিককে৷

সে উদ্দেশ্যেই ২০০৬ সালে প্রেমিকের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন করে যৌন হয়রানির অভিযোগে মামলা করেছিলেন কথিত প্রেমিকা৷ ২০০৯ সালে ক্যানাডার নোভি স্কোটিয়া সুপ্রিমকোর্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি জানিয়ে হাচিনসনকে নির্দোষ ঘোষণা করে৷

কিন্তু আপিল আদালত সেই রায় খারিজ করে নতুন করে মামলার শুনানির নির্দেশ দেয়৷ ক্যানাডার সুপ্রিমকোর্টে অবশেষে মামলাটির নিষ্পত্তি হয়েছে৷

আদালত জানিয়েছে, কনডম ফুটো করার তথ্যটি গোপন করে প্রেমিকাকে অন্তঃসত্ত্বা করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন জ্যারেট হাচিনসন৷সে অপরাধে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে তাকে৷ হাচিনসন অবশ্য এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন।
    Blogger Comment
    Facebook Comment