সর্বশেষ খবর:

শিশুই যখন ধর্ষক


​ধর্ষণ যেন সামাজিক মহামারি হয়ে উঠেছে। সে মহামারিতে আক্রান্ত হচ্ছে তরুণ থেকে শুরু করে বৃদ্ধরাও। প্রতিদিনই শহর থেকে গ্রামে কোথাও না কোথাও ঘটেই চলেছে এ অপরাধ।

ধর্ষক হিসেবে অভিযুক্তের তালিকায় দেখা গেছে বখাটে থেকে বড় জোর কিশোর তরুণদের। কিন্তু এ তালিকায় যে শিশুরাও আসতে পারে তা জানা ছিল না। এবার রংপুরে ষষ্ঠ শ্রেণীর এক ছাত্রের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রীকে (৮) ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শনিবার সকালে রংপুর মহানগরীর সম্মানপুর এলাকার বাসিন্দা পত্রিকা বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম কোতোয়ালি থানায় রিয়াজ নামে ওই ছাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।

অভিযুক্ত শিশুর নাম রিয়াজ (১১)। সে মহানগরীর সম্মানপুর এলাকার কৃষক আনিছুল হকের ছেলে। সে স্থানীয় বড়বাড়ি বয়েজউদ্দিন হাইস্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে ওই ছাত্রীকে বাড়ির বাইরে ডেকে নিয়ে যায় রিয়াজ। এরপর পার্শ্ববর্তী মনিরুদ্দিনের নির্মানীধীন একটি নির্জন বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। পরে রাতে ওই ছাত্রী অসুস্থ অবস্থায় বাসায় ফিরে আসে। এসে তার নানীকে ধর্ষণের ঘটনাটি জানায়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ছাত্রীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ছাত্রীর নানী আসমা বেগম বাংলামেইলকে বলেন, শুক্রবার বাড়িতে ছোট নাতীর মুখে ভাত অনুষ্ঠান ছিলো। এ কারণে সবাই খুব ব্যস্ত ছিল। এ সুযোগে সন্ধ্যার সময় আনিছুলের ছেলে রিয়াজ আমার নাতনীকে বাড়ির বাইরে ডেকে নিয়ে যায়। পরে পাশের এক নির্জন বাড়িতে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। এরপর ব্যাপারটি জানাজানি হয়।

এদিকে, ঘটনার পর স্থানীয় মাতবর দেলোয়ার ও সাখাওয়াত অভিযুক্ত রিয়াজের বাসায় গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। প্রথমে সে অস্বীকার করলেও পরে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে বলে তারা জানান।

স্থানীয়রা জানান, গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে বিষয়টি শনিবারের মধ্যে সমাধানের দায়িত্ব নেন তারা। কিন্তু সাংবাদিকরা জানার পর সেখানে গেলে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায় রিয়াজ ও তার কৃষক বাবা।

ধর্ষিতার বাবা রফিকুল ইসলাম বাংলামেইলকে বলেন, 'মেয়ের কাছ থেকে ঘটনাটি জানার পর থানায় অভিযোগ করেছি। পুলিশ টাকা ছাড়া অভিযোগটি মামলা হিসেবে নিতে চাননি।'

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল কাদের জিলানী বাংলামেইলকে বলেন, 'এ ব্যাপারে অভিযোগ নেয়া হয়েছে।'

    Blogger Comment
    Facebook Comment