ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের ‘ঘ’ ইউনিটের অনার্স প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়েছে। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে সর্বমোট ৩৭জনকে আটক করা হয়েছে ।
শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষায় অসুদপায় অবলম্বন করায় বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তাদেরকে আটক করা হয়েছে। এর আগে গতকাল রাতে র্যাব ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযান চালিয়ে ২০জনকে আটক করে। এদের মধ্যে ১৯জন র্যাবের কার্যালয়ে আটক করেছে এবং বাকি ১জনকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর প্রফেসর ড. এম আমজাদ আলী পরীক্ষা শেষে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, পরীক্ষায় জালিয়াতির সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বৃহস্পতিবার ২০জন এবং আজ শুক্রবার পরীক্ষা চলাকালে ১৭জনসহ মোট ৩৭জনকে আটক করা হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তাদেরকে আটক করা হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন- আজিমপুর অগ্রনী স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ৩জন। তারা হলেন- বুলটি বালা (রোল নং-৭৪০৪৩৪), মো: মেহেদী হাসান রানা (রোল নং-৭৪১৪০১), মেহেদী হাসান খান (রোল নং-৭৪০৭০৪)। তাদেরকে লালবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ২জন। তারা হলেন- মেহেদী হাসান (৭৭৫৯১৪), কৌশিক ফারহান (৭৭৫৯০৫)। তাদেরকে রমনা থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
আজিমপুর গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ২জন। তারা হলেন- মোছা: খায়রে উম্মে সালমা (৭৩৩৪৫০), শারমিন আকতার মিশু (৭৩৩১৫৯)। এদেরকে লালবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
বদরুন্নেছা মহিলা কলেজ থেকে ২জন। তারা হলেন- মো: আবিদ ইসলাম রিতন ( ৭২৭৯২২), মো: শাহরুখ আলম (৭২৯০৪২)। তাদেরকে চকবাজার থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
লালবাগ মডেল স্কুল থেকে ইমদাদুল ইসলামকে (৭৩২১১৫) আটক করা হয়। তাকে লালবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
শেখ বোরহান উদ্দিন কলেজ থেকে রিয়াদ আরফিনকে (৭২৪১৩৮) আটক করা হয়। তাকে বংশাল থানায় সোপর্দ করা হয়।
মতিঝিল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ফৌজিয়া জামান নবনীকে (৭৮৮৩৯৭) আটক করা হয়। তাকে মতিঝিল থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
খিলগাঁও সরকারী উচ্চবিদ্যালয় থেকে ফাতিমা বিনতে জাফরকে (৭৯৮০১২) আটক করা হয়। তাকে খিলগাঁও থানায় সোপর্দ করা হয়।
মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে মেহেদী হাসানকে (৭৭৩৫৭২) আটক করা হয়। তাকে মিরপুর থানায় সোপর্দ করা হয়।
টিকাটুলি সেন্ট্রাল মহিলা কলেজ থেকে মো: ওমর ফারুককে (৮০৩৩০০) আটক করা হয়। তাকে ওয়ারী থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ থেকে রিহাদ হাসান রিফাতকে (৭৮২৪৯৫) আটক করা হয়। তাকে রমনা থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
মোহাম্মদপুর সেন্ট্রাল কলেজ থেকে মো: রনি হাসানকে (৭৬০৯৭৬) আটক করা হয়। তাকে মোহাম্মদপুর থানায় সোপর্দ করা হয়।
এই ১৭জনকে শুক্রবার ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে আটক করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ৩জনকে আটক করে। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রয়েছেন ২জন। তারা হলেন- মহসিন হলের ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ১ম বর্ষের ছাত্র মো: সুমস মিয়া এবং একই বিভাগের ইভিনিং এমবিএ কোর্সের ছাত্র সাব্বির।
বাকিরা হচ্ছেন ঢাকা ক্লাবের কর্মকর্তা শামীম। এদের মধ্যে ২জনকে র্যাবের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। বাকি ১জনকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়।
এদের তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে র্যাব অভিযান চালিয়ে আরো ১৭জনকে আটক করে। তারা বর্তমানে র্যাবের কার্যালয়ে আটক রয়েছেন। তারা সবাই জালিয়াত চক্রের প্রধান হোতা বলে জানা গেছে।
আটককৃত সবার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় পর্যায়ক্রমে মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর প্রফেসর ড. এম আমজাদ আলী।

Blogger Comment
Facebook Comment