সর্বশেষ খবর:

সাঁতার কাটবেন প্রেসিডেন্ট, তাই…


​ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ী এখন থেকে নিয়মিত সাঁতার কাটতে হবে দেশের ২০তম প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদকে। সর্বশেষ যুক্তরাজ্য সফরে গিয়ে ডাক্তারদের কাছ থেকে এমনই পরামর্শ নিয়ে ফিরেছেন তিনি। কিন্তু বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্ট বা তার পরিবারের সদস্যদের সাঁতার কাটার জন্য কোন সুইমিং পুল নেই। অন্যদিকে ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ী বিষয়টিও জরুরি। এমন অবস্থায় প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদ যুক্তরাজ্য সফর শেষে দেশে ফেরার পর পরই গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি চিঠির মাধ্যমে জানায় বঙ্গভবন। এরপর খোদ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররাফ হোসেনসহ কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের দল গত মঙ্গলবার বিকালে বঙ্গভবনে ছুটে যায়। তারা প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদকে সঙ্গে নিয়ে সুইমিং পুল স্থাপনের জন্য নির্ধারিত কয়েকটি স্থান পরিদর্শন করেন। এরপর এটি নির্মাণের জন্য নকশা ও নির্মাণের জন্য প্রাসঙ্গিক প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলেন। প্রেসিডেন্ট তখন জানতে চান, সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এটি করতে কত দিন সময় লাগতে পারে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা তখন প্রেসিডেন্টকে জানান, সুইমিং পুল স্থাপনের জন্য নকশা তৈরি করবে স্থাপত্য অধিদপ্তর। তাদের নকশা তৈরির পর ব্যয়ের প্রাক্কলন (ইস্টিমেট) তৈরি করা হবে। সব প্রক্রিয়া শেষ করে নিয়ে আসতে এক বছর সময় লাগতে পারে। তখন প্রেসিডেন্ট অনেকটা মজা করে বলেন, এতদিন বেঁচে থাকি কিনা ঠিক নেই। একটু তাড়াতাড়ি পারলে সুইমিং পুলটি বানিয়ে দিন। সাঁতার কেটে ডাক্তারের নির্দেশ পালন করি। বঙ্গভবনে উপস্থিত কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নিয়ম কানুনের বেড়াজালের কারণে সুইমিং পুলটি জরুরি ভিত্তিতে থোক বরাদ্দের অর্থ দিয়ে নির্মাণ করে দেয়া হবে। বঙ্গভবনে সুইমিং পুল নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের (পিডব্লিউডি) প্রধান প্রকৌশলী মো. কবির আহমেদ ভূঁইয়া মানবজমিনকে বলেন, মঙ্গলবার সুইমিংপুল স্থাপনের প্রাথমিক কাজ দেখতে বঙ্গভবনে গিয়েছিলাম। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আমাদের সঙ্গে ছিলেন। আমরা স্পট ঠিক করেছি। শিগগিরই নকশা প্রণয়নসহ কাজগুলো শুরু করার আশা করছি। এর আগে গত ১৭ই আগস্ট দুপুরে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদ লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দেন। চোখের ?চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ৯ দিনের সফরে যুক্তরাজ্য যান। দেশে ফেরেন ২৫শে আগস্ট। স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার সময়েই শরীরের নানা সমস্যা ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা তাকে সাঁতার কাটার পরামর্শ দেন। উল্লেখ্য, ৭০ বছর বয়সী আবদুল হামিদ দীর্ঘদিন ধরে চোখের গ্লুকোমার সমস্যায় ভুগছেন। স্পিকার থাকা অবস্থায়ও চিকিৎসার জন্য নিয়মিত সিঙ্গাপুরে যেতেন তিনি।
    Blogger Comment
    Facebook Comment