যশোরে যৌন উত্তেজক ওষুধ (ভায়াগ্রা?) খেয়ে স্বামী ও ননদের স্বামী (নন্দাই) মিলে এক নববধূকে (১৯) গণধর্ষণ করেছে। পরে মুমূর্ষূ অবস্থায় স্ত্রীকে নববধূকে শ্বশুরবাড়িতে রেখে পালিয়ে যায় স্বামী। ঘটনার দুদিন কেটে গেলে ধর্ষিতার পরিবার নিরূপায় হয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করলে ঘটনাটি প্রকাশ পায়। এরপরেই চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
গত ৭ মে যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্র্রপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নববধূ জানান, তিন মাস আগে মনিরামপুর উপজেলার দুর্বাডাঙ্গা গ্রামের মোশাররফ হোসেনের ছেলে আজাদ হোসেনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী নির্যাতন করে আসছে। দিন পনের আগে স্বামী তাকে মারপিট করায় সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। এরপর বৃহস্পতিবার স্বামী আজাদ ও তার ভগ্নিপতি লিটন তাকে বুঝিয়ে ননদের বাড়ি নরেন্দ্রপুরে নিয়ে যায়। রাতে খাবারের পর স্বামী আজাদ ও লিটন মিলে যৌন উত্তেজক ওষুধ খায়। তাকেও জোর করে খাওয়ানোর চেষ্টা করে। কিন্তু খাওয়াতে ব্যর্থ হয়ে রাত একটার দিকে তিনজন মিলে তাকে জোর করে বাড়ির পাশে মাঠে নিয়ে যায়। এরপর তারা পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় চিৎকার করলেও কেউ তার কথা শোনেনি। এক পর্যায়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
মেয়েটির মা কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, জামাই ও জামাইয়ের ভগ্নিপতি ভালোভাবে মেয়েকে ডেকে নিয়ে গেল। ননদের বাড়িতে গেছে বলে কোনো চিন্তা করিনি। শুক্রবার ভোরে জামাই সাইকেলে করে মেয়েকে অসুস্থ অবস্থায় আমার বাড়িতে রেখে যায়।
মেয়েটির মা আরো বলেন, এখন তো (রোববার রাত) মেয়েটা তাও বসতে পারছে। এ কদিন কোনো হুশই ছিল না। ওরা (স্বামী ও স্বামীর ভগ্নিপতি) আমার মেয়ের সর্বনাশ করে পালিয়ে গেছে। আমি ওদের বিচার চাই।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আলমগীর কবির বলেন, প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। রোগীর শারীরিক অবস্থা বেশ জটিল। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
যশোর কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিকাদার আক্কাছ আলী বলেন, স্বামী ও স্বামীর ভগ্নিপতির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ পেয়েছি। তবে এ ঘটনায় ভিকটিমের পরিবার এখনও মামলা করেনি। পুলিশ এ বিষয়ে তদন্ত করছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

Blogger Comment
Facebook Comment