আঙুরের আকর্ষণ
কয়েক দিন ধরে বাতাসের আর্দ্রতা দ্রুত বাড়ছে-কমছে। এই আবহাওয়ার ফাঁদে পড়ে লেগে যায় ঠান্ডা-কাশি। বিরক্তিকর এই ঝামেলা এড়াতে খেতে পারেন আঙুর। রোগ সারাবে, গরমে তৃষ্ণাও মেটাবে। আঙুর সেই প্রাচীন কাল থেকেই মানুষের সঙ্গে আছে। এখন থেকে প্রায় আট হাজার বছর আগেও আঙুরের চাষ হতো। আঙুরের বেশ কয়েকটি জাত আছে। এখন তো দেশেই চাষ হয়। ঢাকার বারডেম জেনারেল হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ পুষ্টিবিদ শামছুন্নাহার নাহিদ বললেন, আঙুর যেমন খেতে ভালো, দেখতে সুন্দর, তেমনি পুষ্টিগুণও ষোল আনা। আঙুর কেন আকর্ষণীয়, আসুন জেনে নেওয়া যাক।
ভুলে যাওয়া রোগ
অনেকে ছোট ছোট বিষয়গুলো দ্রুত ভুলে যান। আবার কোনো ঘটনা বেমালুম স্মৃতি থেকে মুছে যায়। এটা কিন্তু একধরনের রোগ, হেলাফেলার কিছু নয়। এই রোগ এড়াতে খেতে পারেন আঙুর।
মাথাব্যথা
হঠাৎ করে মাথাব্যথা শুরু হয়ে গেল। এ সময় আঙুর খেলে আরাম বোধ হবে।
হজমের জন্য
দাওয়াত খেয়ে এসে অস্বস্তি লাগলে খেতে পারেন আঙুর। হজমের জন্য যেমন ভালো, পেটের পীড়ার জন্যও উপকারী।
চোখের স্বাস্থ্য
চোখ ভালো রাখতে কার্যকর এই ফল। বয়সজনিত কারণে যাঁরা চোখের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য ভালো দাওয়াই এই ফল।
স্তন ক্যানসার
স্তন ক্যানসারের ঝুঁকিতে আছেন এমন রোগীরা খেতে পারেন আঙুর। গবেষণায় দেখা গেছে, আঙুরের উপাদানগুলো ক্যানসার সৃষ্টিকারী কোষের বিরুদ্ধে কাজ করতে সক্ষম।
কিডনির জন্য
আঙুরের উপাদানগুলো ক্ষতিকারক ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা সহনশীল অবস্থায় রাখে।
সেই সঙ্গে কিডনির রোগব্যাধির বিরুদ্ধেও লড়াই করে।
ত্বকের সুরক্ষায়
আঙুরে থাকা ফাইটো ক্যামিকেল ও ফাইটো নিউট্রিয়েন্ট ত্বকের সুরক্ষায় কাজ করে। আর আছে প্রচুর ভিটামিন সি। এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখে।
বয়সের ছাপে বাধা
শরীরের ফ্রি রেডিকেলস ত্বকে বলিরেখা ফেলে দেয়। আঙুরে থাকা ভিটামিন সি আর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এই ফ্রি রেডিকেলের বিরুদ্ধে লড়ে, শরীরে বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না।
হৃদ্স্বাস্থ্য
এতে থাকা উপাদানগুলো রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখে। সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছে দিয়ে রক্তনালির সুরক্ষায় রাখে ভূমিকা।
চুলের যত্নে
দীঘল চুল একটু অযত্নেই খুশকিতে ভরে যায়। চুলের আগা ফেটে গিয়ে রুক্ষ হয়ে পড়ে। ধূসর রঙের হয়ে যায় কখনো। সব শেষে চুল ঝরতে থাকে। এই সমস্যা এড়াতে খেতে পারেন আঙুর। শুধু চুল ভালোই থাকবে না, মাথায় নতুন চুলও গজাবে।

Blogger Comment
Facebook Comment