সর্বশেষ খবর:

প্রকাশিত সংবাদে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাখ্যা

গতকাল মানবজমিন পত্রিকা ও কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টাল এ প্রকাশিত ‘মার্কেট দখল করে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি’ শিরোনামে প্রতিবেদনের কিছু অংশের ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

( এই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আমাদের পোর্টাল এ প্রকাশিত সংবাদটি অপসারণ করেছি । অনাকাংখিত এই ভুলের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত )


 বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন সহকারী পরিচালক আনোয়ার হাবীব কাজল স্বাক্ষরিত ব্যাখ্যায় বলা হয়, প্রতিবেদনে কিছু তথ্য অসত্য, বিভ্রান্তিকর, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ভুল ও অনুমাননির্ভর। ড্যাফোডিল সোবহানবাগ ক্যাম্পাস বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমতি নিয়েই পরিচালনা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ২০০৪ সালে প্রিন্স প্লাজা ভবনে ৭ম তলা, ক্রমান্বয়ে ৮ম তলা, ৫ম তলা, ১ম, ২য়, ৩য় ও ৪র্থ তলার সিংহভাগ সাব কবলা দলিল মূলে রেজিস্ট্রি করে নিয়ে তার শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ব্যাখ্যা আরও বলা হয়, ভবনটি ৯ তলার ৪০% মালিকানা-ভূমি মালিকদের আর বাকি ৬০%-এর মালিকানা ডেভেলপার আতিকুর রহমানের। ভূমি মালিকদের ৪০% স্থাবর-অস্থাবর ভূমিসহ সাব কবলা দলিল মূলে ইতিমধ্যে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় কিনে নিয়েছে। এছাড়া ডেভেলপারের ৬০%-এর মধ্যে ৮০% ভূমিসহ সাব কবলা দলিল মূলে ড্যাফোডিল কিনে নিয়েছে। বাকি ২০% কেনার জন্য একটি আপস-মীমাংসা চুক্তির মাধ্যমে অগ্রিম ৯০ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ওই ডেভেলপার কালক্ষেপণ করে বিত্রিুর আপস-মীমাংসা চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছেন; যা প্রতারণার শামিল।

এরপর ড্যাফোডিলের সঙ্গে একটি অঙ্গীকারনামায় ডেভেলপার আতিকুর রহমান ২৮টি দোকান ১২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা মূল্য নির্ধারণ করে নগদ ৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা নিয়ে সাব কবলা দলিল মূলে রেজিস্ট্রি করে দেন। অঙ্গীকারনামায় আরও শর্ত ছিল যে, বকেয়া ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকার তিনটি চেক পর্যায়ক্রমে দোকান বুঝিয়ে দেয়া সাপেক্ষে ব্যাংকে নগদ দেয়া হবে। কিন্তু তিনি তা ভঙ্গ করে দোকান না বুঝিয়েই ব্যাংকে তিনটি চেক উপস্থাপন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যাংক একাউন্ট থেকে ১ কোটি ২৩ লাখ টাকার সর্বশেষ চেকটি নগদ স্থগিত রাখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়। এই শর্ত ভেঙে তিনি আদালতে মামলা (মামলা নং ৮২৭৪/২০১৪) দায়ের করেন। অপরদিকে ২ কোটি টাকা পে-অর্ডারের মাধ্যমে গ্রহণ করেন। এই মামলা চলাকালে তিনি ড্যাফোডিলের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সবুর খানের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা (৫৯/২০১৫) দায়ের করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে সবুর খান সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে আদালত থেকে জামিন নেন।

এই ভবনে বেজমেন্ট-১ ও বেজমেন্ট-২ এর মধ্যে সর্বমোট কার পার্কিং-এর সংখ্যা ৬২টি তারমধ্যে রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে আতিকুর রহমানের কাছ থেকে ১৮টি এবং ভূমি মালিকের কাছ থেকে ২৫টি বাকি ১৯টি কার পার্কিং ভবনে আগত অতিথিরা সবাই ব্যবহার করছেন। ফ্লোর রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে হারাহারিভাবে ড্যাফোডিল ভূমির ৮৫% বৈধ মালিক। তাই প্রকাশিত প্রতিবেদনের যা উল্লেখ করা হয়েছে তা সঠিক নয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সোবহানবাগের ক্যাম্পাস সরজমিনে পরিদর্শন করে এলএলবি (অনার্স) প্রোগ্রাম পরিচালনার জন্য অনুমোদন দিয়েছে। বর্তমানে ভবনটির ৮৫% এর বেশি সাব কবলা দলিল মূলে ড্যাফোডিল কর্তৃপক্ষ। বাকি ১৫% কিনার জন্য প্রক্রিয়াধীন। ডেভেলপার আতিকুর রহমান ব্যাংকে ঋণখেলাপি হওয়ায় তিনি আমাদেরকে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করার জন্য পত্র প্রেরণ করেন। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখি, তিনি ব্যাংকে বড় অঙ্কের ডিফল্টার, তার দরুন আমরা তার সঙ্গে চুক্তিকৃত স্পেস রেজিস্ট্রেশন করতে পারি নাই। একটি ভবনে সাধারণত মেইনটেনেন্স জায়গা না রেখে তিনি বিক্রি করে দিয়েছেন, যা প্রতারণার শামিল।

অভিযোগকারী আতিকুর রহমান ২০০৪ সালে প্রথমে ভবনে ৭ম তলা এবং ক্রমান্বয়ে ৮ম তলা ও ৫ম তলা ড্যাফোডিলের কাছে সাফ কবলা দলিলের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করে দেন। কিন্তু তিনি অসত্য তথ্য প্রেরণ করে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের মানসম্মান ক্ষুণ্ন করতে চাইছেন। প্রতারণার জন্য ড্যাফোডিল কর্তৃপক্ষ মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করেন (যার নং-৩৪/২০১৪)। এই মামলায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। আরেকটি মানহানি মামলায়ও আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন (যার নং-৭২/২০১৫)।

ব্যাখ্যায় বলা হয়, এই ভবনের প্রায় ১০০ জনের অধিক দোকান মালিকের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে স্বেচ্ছায় এবং সৌহার্দ্যমূলক আচরণের মাধ্যমে ড্যাফোডিল তাদের দোকান ক্রয় করে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩০০ জন লোককে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় পথে বসিয়েছে, তা সত্য নয়।
    Blogger Comment
    Facebook Comment